Last Updated:
Firhad Hakim: ‘এই CPIM-এর সঙ্গে জোট মানে বেসিক প্রিন্সিপাল নষ্ট হওয়া…’, মমতার বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে কী বললেন ফিরহাদ?
কলকাতা: পুরভোটের প্রেক্ষিতে বামেদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোটে যাওয়া নিয়ে এবার মুখ খুললেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বামেদের সঙ্গে জোটে যাওয়া উচিত নয় বলেই পরামর্শ দিলেন ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, একসময়ের মমতা ঘনিষ্ঠ প্রবীণ নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর ব্যাখ্যা হাজার হাজার কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুন হয়েছেন বামেদের হাতে। বস্তুত এর পরেও বামেদের সঙ্গে জোটে যাওয়া নিয়েই আপত্তি প্রকাশ একদা মমতা ঘনিষ্ঠ ফিরহাদের।
বুধবার ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমরা সবাই কংগ্রেস কর্মী ছিলাম। সেখানে থেকে বামেদের বিরোধিতা করতে পারছিলাম না। ৫৬০০০ কর্মী মারা গিয়েছে। তারপরেও সেই লড়াই দিতে পারেনি। কংগ্রেসের সঙ্গে ওদের দিল্লিতে যোগ ছিল। আমাদের কাছে বিজেপি সেই সময় ফ্যাক্টর ছিল না। আমরা সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করলাম। এর ফলে আমার তিন বন্ধু মারা গেল, অনেকের হাত কাটা হল, অনেককে মারা হল। এই সিপিএমের সঙ্গে জোট মানে বেসিক প্রিন্সিপাল নষ্ট হওয়া।”
একইসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, “বিজেপির সমর্থক আমিও নই। কিন্তু যে দলের জন্য আমরা সব হারিয়েছিলাম। জীবনের ৩৫ বছর লড়াই করেছিলাম। সিপিএম আমাদের চিরশত্রু ছিল। তার হাত কেন ধরব?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লেও ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিমের কথায়, “কংগ্রেস থেকে আমরা বেরিয়ে আসার পরেই কংগ্রেসের এখানে অবস্থা খারাপ হয়। তবে উনি ‘মাই লিডার’ বলায় এখানে কংগ্রেসের দারুণ অবস্থা এমনটাও নয়।”
তবে শুধু ফিরহাদই নন, সূত্রের খবর, বামেদের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে মতবিরোধের সুর শোনা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলেও। বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি মনে করান ইতিহাসের কথা। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ অবশ্য মনে করছেন, বামেদের সঙ্গে জোট সময়ের দাবি।
বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়, দল ভেঙে টুকুরো টুকরো হওয়া, প্রতীক বদলের জেরে কার্যত পর্যুদস্ত তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই পরিস্থিতিতে পুরভোটে কোনওভাবে বামেদের সঙ্গে জোট হলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও মমতা তৃণমূলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে৷

