ঘটনার শুরু শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ৷ অভিষেকের কালীঘাট রোডের বাড়ির সামনে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তাঁর অনুগামীরা। অভিযোগ, অনুগামীরা যখন বাড়ির সামনে বসেছিলেন, তখন বিজেপির কিছু কর্মী পটুয়া পাড়ায় কালী প্রতিমা নিতে এসেছিলেন। সেই সময় ‘চোর চোর’ এবং ‘জয়বাংলা স্লোগান’ ঘিরে উত্তেজনার শুরু। তারপরে পাল্টা স্লোগান দু’পক্ষের বাগবিতন্ডা হাতাহাতি এবং তারপর ইট বৃষ্টি। ভোর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় দুপক্ষ একে অপরের দিকে স্লোগান এবং তেড়ে যাওয়ার ঘটনা শুরু করে। দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। পুলিশ ভোরের দিকে দু’পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিয়ন্ত্রণে আনার সময় পুলিশের উপরেও চড়াও হয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা। কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, লালবাজার থেকে একটি পুলিশের টিম এসেছে। অভিষেকের বাড়ির সামনে৷ সকাল থেকে মতায়েন করা হয়েছে যাতে করে আর কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটে৷ কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে৷ একাধিক কর্মী সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে প্রাণে মারার পরিকল্পনা করা হয়েছে অভিষেককে বলে অভিযোগ।
সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ভিডিওয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার আগে বিজেপি কর্মীরা তাঁর বাড়ির বাইরে দুদিন ধরে বাসভবন রেকি করেছিল। ফুটেজটিতে তাঁর নাম লেখা ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতেও দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিষেক দাবি করে, “টানা দুই দিন রেকি করার পর আজ ভোর ২টোর সময় বিজেপির গুন্ডারা এভাবেই আমার বাড়িতে হামলা চালাল৷” তিনি অভিযোগ করেছেন যে গত ছয় মাসে এটি তাঁর জীবনের ওপর সপ্তম প্রচেষ্টা।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ আরও অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশের উপস্থিতিতে কথিত সহিংসতা ঘটা সত্ত্বেও তারা হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, কিছু বিজেপি সমর্থকের কাছে রিভলভার ছিল এবং তাদের ‘হত্যার পূর্বপরিকল্পিত উদ্দেশ্য’ ছিল।
অভিষেকের কথায়, ‘‘আমাদের এক সহকর্মী, তাপসের, বুড়ো আঙুলের কাছের টিস্যু থেঁতলে গিয়েছিল। আমি তাকে সেলাইয়ের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু ডাক্তার বললেন শুধু সেলাই যথেষ্ট হবে না; তার প্লাস্টিক সার্জারি লাগবে। আরেকজনের চোখের নিচের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। তারা পাথর ও ইট ছুঁড়েছিল। এই সবকিছু পুলিশের চোখের সামনেই ঘটেছে৷”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অবশ্য খারিজ করেছে বিজেপি এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাটিকে একটি ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে, কেন ফুটপাতে জন্মদিন পালন করছেন! এত বড় নেতার তো হোটেলে হল নিয়ে করা উচিত। রাস্তায় ফুটপাতে যদি করেন তো কিছু প্রতিক্রিয়া হয়েছে। কি হয়েছে আমি তো ঘটনা জানিনা। ইঁট পাটকেল নয়, মিষ্টি ছোঁড়াছুঁড়ি করা উচিত।’’
অভিষেকে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনো ডায়লগ। আমাকে মারার চেষ্টা হচ্ছে, খুন করার চেষ্টা হচ্ছে। মানুষ যখন হেরে যায়, যখন মাটি সরে যায় পায়ের তলা থেকে, এই ধরনের ইমোশনের কথাবার্তা বলে।’’
