Last Updated:
গান বন্ধুত্বের গল্প বলে, সিনেমা বন্ধুত্বের নানা দৃশ্য দেখায়। আর লোহাপোতার এই দুই খুদে প্রতিদিন নিজেদের জীবন দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—বন্ধুত্বের জন্য সবসময় শব্দের প্রয়োজন হয় না। একজনের নীরবতাকে যখন অন্যজন বুঝে নেয়, তখন সেই বন্ধুত্বই হয়ে ওঠে সবচেয়ে সুন্দর ভাষা।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: বন্ধুত্ব মানেই পাশাপাশি হাঁটা, একে অপরের না-বলা কথাও বুঝে নেওয়া। কখনও গান মনে করিয়ে দেয় সেই বন্ধুত্বকে, কখনও সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের লোহাপোতা গ্রামের দুই খুদের বন্ধুত্ব যেন তার থেকেও একটু আলাদা। এখানে কথা নেই, শব্দ নেই, তবুও আছে বোঝাপড়ার এক গভীর ভাষা।
ছোটবেলা থেকে পাশাপাশি বড় হতে হতে দু’জন যেন একে অপরের মনের ভাষাটাই শিখে নিয়েছে। স্কুলে শিক্ষকের পড়া হোক কিংবা সহপাঠীদের কথা—শব্দ হয়ে নয়, একজনের হাতের ইশারাতেই সেসব পৌঁছে যায় আরেকজনের কাছে। একজন যা বুঝতে পারে না, অপরজন ইশারায় জিজ্ঞাসা করে। খুদে জানায়, ‘‘ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ছোট থেকেই আমরা বন্ধু। স্কুলে ও যেটা বুঝতে পারে না, আমাকে জিজ্ঞাসা করে। আমি বলে দিই। আমার মনে হয়, আমি যদি ওকে বোঝাই, তাহলে ও আমার আরও কাছের বন্ধু হয়ে যাবে।’’
লোহাপোতা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে এখন পাশাপাশি বসে দুই বন্ধু। একই বেঞ্চ, একই বই, একইসঙ্গে টিফিন—স্কুলের প্রতিটি দিনই যেন তাদের বন্ধুত্বের নতুন গল্প। পড়াশোনাতেও এই বন্ধুত্বের কারণে কোনও ছেদ পড়েনি। খাতায় লেখা, অঙ্ক করা, পড়া মনে রাখা কিংবা পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা—সবকিছুতেই নিজের মতো করে এগিয়ে চলেছে সে। আর পাশে থেকে অন্যজন শুধু তাকে সাহায্যই করছে না, বন্ধুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়েও চলেছে।

