Headlines

পালাবদলের পথে ইজরায়েল? নেতানিয়াহুর হাতছাড়া সরকার গঠনের দায়িত্ব, প্রেসিডেন্টের সম্মতি পেলেন গাদি আইজেনকট | লেটেস্ট বিদেশের খবর


Last Updated:

ইজরায়েলের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পিছনে ফেলে প্রাক্তন সেনাপ্রধান তথা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিলেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

প্রেসিডেন্টের সম্মতি পেলেন গাদি আইজেনকট , File pic/Reuters
প্রেসিডেন্টের সম্মতি পেলেন গাদি আইজেনকট , File pic/Reuters

ইজরায়েল: ইজরায়েলের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। দেশের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রাক্তন সেনাপ্রধান তথা বিরোধী শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিলেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জোটের অচলাবস্থার জেরেই এই সিদ্ধান্ত। ১২০ আসনের নেসেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পিছনে ফেলে আইজেনকটের হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রাক্তন ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)-এর চিফ অফ স্টাফ আইজেনকট একসময় নেতানিয়াহুর শিবির ছেড়ে বেরিয়ে এসে মধ্যপন্থী ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক জোটের নেতৃত্ব দেন। তাঁর হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দিয়ে প্রেসিডেন্ট কার্যত ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক মেরুকরণ কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সেনাপ্রধান থেকে রাজনীতির কেন্দ্রে আইজেনকট

ইজরায়েলের রাজনীতিতে গাদি আইজেনকটের উত্থান প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে এক বড়সড় ব্যতিক্রম। একজন অভিজ্ঞ সেনাকর্তা হিসেবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করে জাতীয় ঐক্য, বিচারব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সংস্কারের মতো বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেন।

তাঁর জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচি মধ্যপন্থী রক্ষণশীল ভোটার, ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থী এবং নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নেতার সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। ইজরায়েলের আইন অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তত ৬১ জন সাংসদের সমর্থন নিশ্চিত করতে আইজেনকট ২৮ দিন সময় পাবেন।

সরকার গঠনের পথে একাধিক বাধা, কোন পথে এগোবেন আইজেনকট?

প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেও আইজেনকটের সামনে রয়েছে একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ। জোট গঠনের জন্য তাঁকে একদিকে ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থী দলগুলির দাবি, অন্যদিকে দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলির অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এই দক্ষিণপন্থী দলগুলির একাংশ আগে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সমীকরণে ছিল।

আসন্ন জোট আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের (Ultra-Orthodox) জন্য সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের ক্ষেত্রে ছাড় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি। দলীয় সূত্রের খবর, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দোদুল্যমান রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থন নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্তরে কথাবার্তা শুরু হয়েছে।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় কি শেষের পথে?

প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। ইজরায়েলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই এবং তাঁর মেরুকরণমূলক শাসননীতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমশ বিভক্ত করেছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর দল এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, বিরোধীদের নেতৃত্বে গঠিত সরকার অস্থিতিশীল হবে এবং বেশিদিন টিকবে না।

এখন শুরু হয়েছে ২৮ দিনের কাউন্টডাউন। জেরুজালেমের রাজনৈতিক দরকষাকষির উপরই নির্ভর করছে, আইজেনকট আদৌ স্থায়ী সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ঐকমত্য তৈরি করতে পারবেন কি না। নাকি শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলকে ফের একবার আগাম নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *