Headlines

‘মাদল থেকে মহাকাশ’! আদিবাসী পড়ুয়াদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার তৈরির উদ্যোগ, দক্ষিণবঙ্গে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঘোষণা | পশ্চিমবঙ্গের আজকের খবর


Last Updated:

আদিবাসী পড়ুয়াদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে গড়ে তুলতে দক্ষিণবঙ্গে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। বিষ্ণুপুরে ‘মাদল থেকে মহাকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে যোগ দিয়ে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।

আদিবাসী পড়ুয়াদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার তৈরির উদ্যোগ
আদিবাসী পড়ুয়াদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার তৈরির উদ্যোগ

বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া: আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। এবার দক্ষিণবঙ্গেও আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। বিষ্ণুপুর মহকুমা গ্রন্থাগারে আয়োজিত ‘মাদল থেকে মহাকাশ’ শীর্ষক একটি সেমিনারে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি।

এ দিন মন্ত্রী জানান, রাজ্যের ট্রাইবেল দফতরের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এবার দক্ষিণবঙ্গেও একই ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেখানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরা ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রশাসনিক উচ্চপদে চাকরির বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পাওয়ার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের আদিবাসী পড়ুয়াদের কাছে এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

বাঁকুড়া জেলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের বহু মানুষের বসবাস। তাঁদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করে সমাজের মূলস্রোতে এগিয়ে নিয়ে আসতেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রশাসনের আধিকারিকরা সরকারি প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে বোঝান। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে ইতিমধ্যেই যাঁরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তাঁদেরও মঞ্চে হাজির করা হয়, যাতে তাঁদের সাফল্য দেখে বর্তমান প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা অনুপ্রাণিত হন।

এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত, পুলিশ সুপার পিবিজি সতীশ, বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক পাটিল বিনয় সুনীল, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বিষ্ণুপুর, সোনামুখী-সহ বিভিন্ন ব্লক এলাকা থেকে বহু আদিবাসী যুবক-যুবতী এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, মাদল আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই সংস্কৃতিকে রক্ষা করার পাশাপাশি আদিবাসী সমাজের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই ‘মাদল থেকে মহাকাশ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হলে গ্রামের পড়ুয়ারাও উচ্চশিক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগ পাবে।

আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অটুট রেখে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *