Kali Puja 2026: অমাবস্যার রাতে জ্যোৎস্নায় ভেসেছিল জঙ্গল! তান্ত্রিকের অলৌকিক কাহিনি আজও প্রচলিত বর্ধমানে | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

Kali Puja 2026: ঘট ছাড়াই শুধু বিগ্রহের নিত্যপুজো হয়। দীপান্বিতা কালীপুজোয় অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে।

তান্ত্রিকের অলৌকিক কাহিনি আজও প্রচলিত বর্ধমানে
তান্ত্রিকের অলৌকিক কাহিনি আজও প্রচলিত বর্ধমানে

পূর্ব বর্ধমান: এই তান্ত্রিকের নাকি অসীম অলৌকিক ক্ষমতা! সেই কথা পৌঁছে গিয়েছে রাজদরবারেও। শুনেছেন বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদও। রাজা মনে মনে ভাবলেন, সত্যিই কি তাই? একবার পরখ করে দেখা যাক। সেই মতো মন্ত্রী-সান্ত্রীদের নিয়ে হাজির হলেন মহারাজ তেজচাঁদ। তারপর কী ঘটল?

চারদিকে ঘন জঙ্গল। রাতের অন্ধকার নেমেছে অনেক আগেই। একটানা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। সামনে-পিছনে মশাল জ্বেলে এগিয়ে চলেছেন রাজকর্মচারীরা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন মহারাজ। জঙ্গলের মাঝে বসে কালীসাধনা করছেন তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী। তান্ত্রিক বুঝতে পারলেন, রাজা তাঁর সাধনশক্তির পরীক্ষা নিতে এসেছেন। সেদিন ছিল ঘোর অমাবস্যা। রাজা জানতে চাইলেন, আজ কী তিথি? তান্ত্রিক জানালেন, আজ পূর্ণিমা। রাজা বললেন, তাঁকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখাতে পারবেন কি না। মৃদু হাসলেন গোকুলানন্দ। মুহূর্তের মধ্যেই চারদিক জ্যোৎস্নার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠল। আকাশের দিকে আঙুল তুলে তান্ত্রিক বললেন, “ওই পূর্ণিমার চাঁদ। দেখুন মহারাজ।”

অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখে তান্ত্রিকের সাধনায় মুগ্ধ হলেন মহারাজ। গোকুলানন্দকে ১০ বিঘা জমি দান করেন তিনি। পাশাপাশি, তৈরি করে দেন মা কালীর একটি মন্দির। কালীমন্দিরের পাশেই নির্মাণ করা হয় তিনটি শিবমন্দির। সেই সময় থেকেই বর্ধমানের লাকুড্ডির দুর্লভা কালীবাড়িতে নিত্যপুজো হয়ে আসছে। বর্ধমানের প্রসিদ্ধ কালীমন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম লাকুড্ডির এই দুর্লভা কালীমন্দির। দেবীর দর্শন পাওয়া নাকি অত্যন্ত দুর্লভ। সেই থেকেই দেবীর নাম দুর্লভা কালী। প্রায় আড়াইশো বছর আগে তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী পাশের জলাশয়ে স্নান করতে নেমে একটি পাথর পান। সেই পাথরকেই মা কালীর রূপ হিসেবে পুজো করতে শুরু করেন তিনি। পরে রাজার তৈরি করে দেওয়া মন্দিরে সেই পাথরখণ্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও আজও সেই পাথরখণ্ড সামনে রেখেই পুজো করা হয়।

সাধক কমলাকান্তও এখানে তন্ত্রসাধনা করতে আসতেন। বর্ধমানের রাজারা এই মন্দিরে ভোগঘর তৈরি করে দেন। পুজোর ব্যয়ভারও বহন করতেন তাঁরাই। এখানে আজও নিত্যপুজোর পাশাপাশি দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। এই কালীমন্দিরে ঘটের আবাহন বা বিসর্জনের রীতি নেই। ঘট ছাড়াই শুধু বিগ্রহের নিত্যপুজো হয়। দীপান্বিতা কালীপুজোয় অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *