Last Updated:
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ১ ব্লকের মোস্তাফাপুর সংলগ্ন সাঁকোপাড়া গ্রাম। সেখানেই রাতের অন্ধকারে এক অজানা প্রাণীর কামড় দুই মহিলাকে। এলাকায় আতঙ্ক।
কাটোয়া, বনোয়ারীলাল চৌধুরী : রাতের অন্ধকারে কখনও বাড়ির উঠোনে, কখনও ঘরের ভিতরে হানা দিচ্ছে এক অজানা প্রাণী। আচমকাই ঘুমের মধ্যে পায়ে কামড় বসাচ্ছে, আবার মুহূর্তের মধ্যে পাঁচিল টপকে বা ছাদের কার্নিশ বেয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
স্থানীয়দের অনুমান, সেটি ভাম বিড়াল। আর সেই ভাম বিড়ালের আতঙ্কেই এখন রাতের ঘুম উড়েছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ১ ব্লকের মোস্তাফাপুর সংলগ্ন সাঁকোপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের।
ইতিমধ্যেই ওই গ্রামের দুই মহিলার পায়ে কামড়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রাণীটির বিরুদ্ধে। আতঙ্কে সন্ধে নামলেই দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে থাকছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা কাঞ্চন ঘোষের দাবি, রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ বাথরুম থেকে ফিরে ঘরের ভিতরে জল খেতে গিয়েছিলেন তিনি।
সেই সময় আচমকাই তাঁর পায়ে কামড় বসায় প্রাণীটি। পরে সেটিকে পাঁচিলের উপর উঠে বসতে দেখেন তিনি। তাঁর বর্ণনায়, প্রাণীটির চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছিল এবং মুখের গড়ন ছিল অনেকটা প্যাঁচার মতো।
অন্যদিকে, গ্রামের আর এক বাসিন্দা টুসি ঘোষের অভিযোগ, রাত ১১টা নাগাদ ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর পায়ের তলায় কামড় দেয় প্রাণীটি। পায়ের তলা থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে, পাশাপাশি চামড়ার উপরিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সারা রাত জ্বালা-যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে হয় তাঁকে। যদিও তিনি প্রাণীটির মুখ দেখতে পাননি, শুধু লেজ দেখতে পেয়েছিলেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, শুধু ওই দুই মহিলার বাড়িতেই নয়, রাতের অন্ধকারে গ্রামের একাধিক বাড়িতে ঢুকে পড়ছে প্রাণীটি। কখনও গাছে উঠছে, কখনও বাড়ির ছাদ বা কার্নিশে ঘোরাফেরা করছে। গ্রামবাসী বিভাকর ঘোষের কথায়, প্রাণীটির শরীরের রং অনেকটা বিজির মতো হলেও লেজ বেশ লম্বা এবং মুখের গড়ন অদ্ভুত।
