Last Updated:
চোরবাগানের ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “পুজোর যে ঘটনাটা, আমরা মর্মাহত। এখানে রাজনীতি করতে মানা করব। বৃষ্টি এসে গিয়েছিল। মানুষ উল্টো দিক থেকে ঢুকতে শুরু করে দিয়েছিল। প্রত্যেকে নিজের জীবন বাঁচাতে গিয়েছিলেন। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন।”
পূর্ব বর্ধমান: চোরবাগান কাণ্ডে দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তদন্তের প্রসঙ্গে এমনই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের মেমারির পালশিটে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেখানেই চোরবাগানের ঘটনা এবং তদন্ত নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
সাংবাদিকরা তাঁকে জানান, চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, পুজোর আগে পর্যাপ্ত সতর্কতা ছাড়া কীভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং কেন যথাযথ পরিদর্শন করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বর্তমান পুলিশ কমিশনারের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
এর উত্তরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনগণ তৃণমূলকেই বরখাস্ত করে দিয়েছে কয়েক মাস হল। এখন ওরা আবার লোকের বরখাস্তের কথা বলছে। আমাদের সরকার তদন্ত করছে। যদি কারও অপরাধ থাকে, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন—কাউকে ছাড়া হবে না, কাউকে রেয়াত করা হবে না।”
সাংবাদিকরা এরপর চোরবাগানের পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত দ্বিতীয় ঘোষক বাবু চৌধুরীর একটি ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ তোলেন। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ক্লাবে গিয়ে তিনি থানার বড়বাবু ও ছোটবাবুকে বসে থাকতে দেখেন। ১০-১৫ মিনিট পর তাঁরা চিৎকার করে বেরিয়ে যান। এরপর তিনিও বেরিয়ে আসেন। তাঁর দাবি, পুলিশের এক কর্মী তাঁকে মাইকে ঘোষণা করতে বলেছিলেন। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তদন্ত চলছে। তদন্তে যদি সেই বিষয়গুলি বাইরে আসে, অর্থাৎ কে বলেছিল, বা যদি প্রমাণিত হয় যে কেউ বলেছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”
চোরবাগানের ঘটনায় কী পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং মাইকে ঘোষণার ক্ষেত্রে কারও নির্দেশ ছিল কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, তদন্তে কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

