Headlines

Durga Puja: বিসর্জন নয়, ঘরের মেয়ের মতো লালনপালন! রাজ্যের এই মন্দিরে সারাবছর বিরাজমান দুর্গা, জানুন কোথায় | Durga Puja No Immersion Only Eternal Presence 400 Year Old Tradition Of Kalna Joy Durgabari | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

Durga Puja: বিজয়া দশমীতে রাজ্যজুড়ে যখন বিসর্জনের বিষাদ, পূর্ব বর্ধমানের কালনার জয় দুর্গাবাড়ির ছবিটা একেবারেই আলাদা! প্রায় ৪০০ বছর ধরে চলে আসা প্রথা মেনে এখানে উমার বিসর্জন হয় না। মা দুর্গাকে পরিবারের ‘মেয়ে’ হিসেবে সারা বছর কাছে পাওয়ার আনন্দেই মেতে থাকেন সবাই। ৩৬৫ দিন ধরে চলা কালনার এই ঐতিহ্যবাহী ও অলৌকিক পুজোর ইতিহাস জেনে নিন।

পূর্ব বর্ধমানের কালনার জয় দুর্গাবাড়ির ৪০০ বছরের পুরনো মন্দিরে সারাবছর ধরে পূজিত দেবী দুর্গার প্রতিমা
পূর্ব বর্ধমানের কালনার জয় দুর্গাবাড়ির ৪০০ বছরের পুরনো মন্দিরে সারাবছর ধরে পূজিত দেবী দুর্গার প্রতিমা

কালনা, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: বিজয়া দশমী পেরিয়ে একাদশী। চারদিকে বিসর্জনের বিষাদ কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জনজীবন। কোথাও মণ্ডপ ফাঁকা, কোথাও প্রতিমা বিসর্জনের পর মন ভারাক্রান্ত। কিন্তু কালনার জয় দুর্গাবাড়ির ছবি একেবারেই আলাদা। এখানে মা দুর্গার বিসর্জন হয় না। কারণ, এই পরিবারের কাছে মা দুর্গা শুধুমাত্র আরাধ্য দেবী নন, তিনি বাড়ির মেয়ে। তাই বিসর্জনের বেদনা নয়, সারা বছর মাকে কাছে পাওয়ার আনন্দেই মেতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা।

প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রথা চলে আসছে বলে জানা যায়। পরিবারের ঐতিহ্য মেনে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীর পুজো হয়। তবে দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। নিয়ম মেনে বিসর্জন হয় ঘট ও নবপত্রিকার কলাবউয়ের। কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে সম্পন্ন হয় সেই আচার। এরপরেও মন্দিরে নিজের আসনেই বিরাজ করেন মা দুর্গা। বছরের ৩৬৫ দিনই তাঁকে ঘিরে চলে পুজো-অর্চনা। তাই অন্যত্র যখন উমাকে বিদায় জানানোর বিষাদ, তখন জয় দুর্গাবাড়িতে থাকে মাকে সারা বছর কাছে পাওয়ার তৃপ্তি।পরিবারের সদস্য সোমা মুখার্জির কথায়, অন্যত্র বিজয়ার বিষাদের সুর শোনা গেলেও তাঁদের বাড়িতে সেই আবহ তৈরি হয় না।

আরও পড়ুন: ৭০ টাকা থেকে প্রতিমা, আপেল ১২০! লক্ষ্মীপুজোর আগে কেমন বাজারদর? রইল ফলমূল-শাকসবজির লেটেস্ট দাম

মেয়েরা যেমন নিজের বাড়িতে থাকে, তাঁদের কাছে মা দুর্গাও তেমনই পরিবারের সদস্য হয়ে মন্দিরে থেকে যান। ফলে বিসর্জনের দিনেও আনন্দের কোনও খামতি থাকে না। বরং সময়ের সঙ্গে সেই আনন্দ আরও বেড়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।এই পুজোর রীতিতেও রয়েছে বেশ কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। এখানে মা দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী ও সরস্বতী থাকলেও কার্তিক ও গণেশ থাকেন না। পুজোর অঙ্গ হিসেবে চালকুমড়ো বলির রীতিও রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও একত্রিত হয়ে এই পুজোয় অংশ নেন। প্রতি ১২ বছর অন্তর দেবীর অঙ্গরাগের রীতি পালন করা হয়।

আরও পড়ুন: দশমীতে কৈলাস যাত্রায় বিরতি! কেন আরও একদিনের জন্য বার্নিশে আটকে পড়েন দুর্গা? জানুন ভাণ্ডানি উৎসবের না-জানা কাহিনি

পরিবারের আর এক সদস্য শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, অন্যত্র প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গেলেও তাঁদের মন্দিরে মায়ের উপস্থিতি অটুট থাকে। তাই বিসর্জনের ছায়া তাঁদের পুজোয় পড়ে না। একাদশীর দিনেও সেই বিশ্বাস আর আনন্দই যেন জয় দুর্গাবাড়ির ঐতিহ্যকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।আধুনিকতার পরিবর্তনে বদলেছে সময়, বদলেছে উৎসবের ধরন। তবুও কালনার জয় দুর্গাবাড়িতে আজও অটুট সেই বিশ্বাস, মেয়ে দুর্গা কোথাও বিদায় নেন না, তিনি থেকে যান নিজের ঘরেই। তাই এখানে বিজয়া মানে বিচ্ছেদ নয়, বরং সারা বছর মাকে কাছে পাওয়ার আনন্দ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *