Headlines

Diwali Special Clay Doll: টুনি লাইটের ভিড়েও ‘হিট’, কালীপুজোর আগে কেন তুঙ্গে মাটির ‘দেওয়ালি পুতুল’-এর চাহিদা? অবাক করবে প্রাচীন রীতি | Diwali Special Clay Doll Rooted In Tradition Why Traditional Dewali Putul Remains Hit In Bengal Before Kali Puja | পশ্চিম মেদিনীপুর


Last Updated:

Diwali Special Clay Doll: টুনি লাইটের ভিড়েও কেন এত কদর মাটির ‘দেওয়ালি পুতুল’-এর? কালীপুজো ও দীপাবলিতে গৃহকোণে দীপলক্ষ্মী পুজোর প্রাচীন রীতি ও তাৎপর্য জানুন।

+

দিওয়ালি

দিওয়ালি স্পেশাল পুতুল

মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: আর দিন কয়েকের অপেক্ষা। তার পরেই আলোর উৎসব দীপাবলিতে মেতে উঠবে গোটা বাংলা। আধুনিক সময়ের হাত ধরে অলিগলি থেকে বাড়ির ছাদ— সবই এখন সেজে ওঠে টুনি আর রকমারি চোখধাঁধানো বাহারি বৈদ্যুতিক আলোয়। কিন্তু সেই কৃত্রিম আলোর ঝলকানিকে পিছনে ফেলে আজও নিজের আপন মহিমায় অটুট বাংলার প্রাচীন লোকঐতিহ্য ‘দেওয়ালি পুতুল’ বা ‘দীপলক্ষ্মী’। দীপাবলির পবিত্র সন্ধ্যায় গৃহকোণ, তুলসীতলা কিংবা ঠাকুরঘরে মাটির এই পুতুলের কোলে জ্বলন্ত প্রদীপ বসানোর রীতি বহু শতাব্দী প্রাচীন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পার হলেও আবেগের সেই সুর আজও অমলিন।

সেই ঐতিহ্যের টানেই আলোর মরশুমে শেষ মুহূর্তের তুমুল ব্যস্ততা মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজারের কুমোরপাড়ায়। এখানকার বেশ কয়েকটি পরিবার বংশপরম্পরায় আঁকড়ে রয়েছে এই চাকা ঘোরার পেশা। সারা বছর হাঁড়ি, সরা, ধুনুচি কিংবা টব তৈরি হলেও কালীপুজোর আগে তাঁদের আঙিনায় রাজত্ব শুধুই দেওয়ালি পুতুল আর মাটির প্রদীপের। পরিবারের অভিজ্ঞ শিল্পীদের পাশাপাশি স্কুলফেরত কিশোর কিংবা গৃহবধূ— কাজ এগিয়ে নিতে হাত লাগিয়েছেন সকলেই। কারও হাতে নিপুণ ছাঁচ উঠছে, তো কেউ মন ঢেলেছেন রকমারি উজ্জ্বল রঙের প্রলেপে। ক্রেতাদের টানতে প্রতিমা ও পুতুলের গড়নে আনা হয়েছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া।

আরও পড়ুন: মহাদেবের বুকে পা নয়, কাচের বোতলের প্রাণ পেলেন অন্য রূপের মাকালী! তাক লাগানো সৃষ্টি বাঁকুড়ার শিল্পীর

তবে উৎসবের এই রঙিন আবহের আড়ালে জড়িয়ে রয়েছে একরাশ লড়াইয়ের বাস্তব গল্প। স্থানীয় মৃৎশিল্পী শেফালী দাসের কথায়, বাজারে পুতুলের আকর্ষণ এখনও যথেষ্ট, নতুন নকশার কদরও মেলে ভাল। কিন্তু মাটি, পুড়োনোর জ্বালানি ও রঙের আকাশছোঁয়া দাম লাভের অঙ্ককে ক্রমশ সংকুচিত করে তুলছে। তার উপর সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে হওয়া টানা বৃষ্টিতে ভিজেছে পোড়া মাটি। ভেজা আবহাওয়ায় মূর্তি শুকোনো ও রং করার কাজ থমকে যাওয়ায় উৎসবের ঠিক মুখে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে শিল্পীদের। সময়মতো সামগ্রী বাজারে না পৌঁছলে সারা বছরের শ্রম জলে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁদের।

আরও পড়ুন: অবসরে আলসেমি নয়, গবেষণাই আসল অক্সিজেন! ১৭ বই লিখে নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা প্রাক্তন ডিআই মধুপ দে

কালের নিয়মে উৎসবের বহিরঙ্গ বদলেছে, চিনা আলোর দাপটে পরিবর্তন এসেছে উদযাপনের সংজ্ঞাতেও। তা সত্ত্বেও শিকড়ের টান ছিঁড়ে যায়নি পুরোপুরি। আধুনিক জীবনের হাজারও ব্যস্ততার মাঝেও মৃৎশিল্পীদের ঘামে ভিজে তৈরি হওয়া এই মাটির পুতুল প্রমাণ করে দিচ্ছে— আলোর আসল ঔজ্জ্বল্য লুকিয়ে থাকে মাটির কাছাকাছিই। প্রতিকূল প্রকৃতি আর বাজারের টানাপোড়েন সয়ে মেদিনীপুরের এই শিল্পীরাই আসলে দীপাবলিতে বাঁচিয়ে রেখেছেন আবহমান বাংলার নিজস্ব লোকসংস্কৃতিকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *