Headlines

Suvendu Adhikari: ‘দরকার হলে সরকার বালি কিনে সাধারণ মানুষকে বিক্রি করবে,’ অক্টোবর থেকেই সস্তা হবে বালি, দাবি শুভেন্দুর | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

এ দিন পূর্ব বর্ধমানের সভায় কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণার পাশাপাশি বালির চড়া দাম নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷

বালির চড়া দাম কমাতে পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর৷
বালির চড়া দাম কমাতে পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর৷

যাঁরা বাড়ি তৈরি করছেন অথবা নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যাতে সস্তায় বালি কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার৷ প্রয়োজনে সরকার নিজে বালি কিনে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে বিক্রি করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

এ দিন পূর্ব বর্ধমানের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ফের মনে করিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার৷ ফলে রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি থেকেও পুলিশ এবং পরিবহণ দফতরের একশ্রেণীর অফিসারদের টাকা তোলা বন্ধ হয়েছে৷ একই ভাবে বালির কালোবাজারি রুখতেও কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ সাধারণ মানুষ যাতে সস্তায় বালি পান, তা নিশ্চিত করতে পূর্ব বর্ধমানের মতো যে জেলাগুলিতে বালি খাদান রয়েছে, সেখানকার জেলাশাসকদেরও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

বর্ষায় নদী থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ থাকায় এমনিতেই জোগান অনেকটা কমে যায়৷ ফলে বালির দাম বাড়ে৷ গত কয়েক মাসে রাজ্যে বালির দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল৷ এমন কি, বালির চড়া দামের কারণেই আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েও অনেকে বাড়ির কাজে হাত দিতে পারছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছিল৷ সেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কানেও যায়৷ এর পরই জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বালির দাম কমানোর বিষয়ে উদ্যোগী হতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বালিঘাটগুলিতে ১০০ সিএফটি বালির দাম ১২০০ টাকায় বেঁধে দেয় প্রশাসন৷

শুভেন্দু অধিকারী এ দিন বলেন, ‘রাস্তায় হাত পাতছে কেউ? পালশিট, ডানকুনিতে হাত পাতছে? দুজন এমভিআই (মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর) ১৬ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিল দুর্গাপুরে৷ প্রথমে সাসপেন্ড করেছি, তার পরে গ্রেফতারও করিয়েছি৷ এখন জেলে রয়েছে৷ বিএলআরও, রেজিস্ট্রি অফিস, ট্রাফিক, মোটর ভেহিকেল- সব জায়গায় বডি ক্যামেরা লাগিয়ে কাজ করতে হবে৷ বালি লুঠ বন্ধ হয়েছে৷ ডিএম ম্যাডামককে রশুদিন ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বলেছই সাধারণ মানুষকে কমদামে বালি দিতে হবে৷ দরকার হলে সরকার বালি কিনে নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিক্রি করবে৷ আর অক্টোবর থেকে বালি খাদান চালু হয়ে গেলে রেট এমনিতেই কমে যাবে৷’

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বালি, পাথরের মতো ক্ষেত্রে থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় কয়েকগুন বেড়েছে৷ বিশেষত বীরভূমের মতো জেলায় বালি, পাথর, কয়লা খাদান থেকে রাজ্যের কোষাগারে আসা রাজস্বের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ সরকারি আধিকারিক এবং নির্মাণ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তৃণমূল আমলে স্থানীয় স্তরে তোলাবাজি, কাটমানি, পরিবহণের জন্য ঘুষ দিতে গিয়ে বালি, পাথরের দাম যেমন অনেকটা বেড়ে যেত, পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমত৷ কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কত পরিমাণ বালি, পাথর তোলা হচ্ছে, তার কোনও হিসেবই থাকত না৷ ফলে কাটমানি, ঘুষ, তোলাবাজি কমায় বালি- পাথরের মতো নির্মাণ সামগ্রীর দাম স্বাভাবিক ভাবেই কমবে৷ তার উপর সরকার সরাসরি বালি কিনে নিয়ে বিক্রি করলে, তা কার্যত নজিরবিহীন পদক্ষেপ হবে৷



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *