Last Updated:
Vishwakarma Puja 2026: বিশ্বকর্মা পুজোর মুখে দিনরাত এক করে কাজ পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার দুর্গাগ্রামে। রেশম, পাট ও রঙিন জরির মালা তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন গ্রামের নারী-পুরুষ উভয়েই। এখানকার তৈরি বিশেষ মালা কেবল স্থানীয় বাজারেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি দেয়।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: কাটোয়া মহকুমার অন্তর্গত দুর্গাগ্রাম। স্থানীয়দের কাছে ‘দুগো’ নামে পরিচিত এই গ্রামেই প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসছে মালা তৈরির কাজ। গ্রামের মালাকার পাড়ার বেশ কিছু পরিবার রেশম, পাট, জরি ও নানা উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন রংবেরঙের বাহারি মালা। কলকাতার বড়বাজার থেকে কাঁচামাল এনে ডাইসের ওপর নকশা অনুযায়ী সাজিয়ে, কেটে ও ফিটিং করে তৈরি হয় সেই মালা। বিশ্বকর্মা পুজোর আগে এই কাজের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রামজুড়ে চলছে ব্যস্ততা।
এই বিষয়ে শিল্পী বাবু চুনারী বলেন, “আমি প্রায় ১৪-১৫ বছর ধরে এই কাজ করছি। বাবার কাছ থেকেই শিখেছি। আমাদের এখানে প্রায় ৫০ বছর ধরে এই কাজ চলছে। রেশম, পাট, জরি, ফুল-সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মালা তৈরি করি। ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের মালা রয়েছে। এখন বিশ্বকর্মা পুজোর মরসুম, তাই রাত-দিন জেগে কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের তৈরি মালা নবদ্বীপ, রামপুরহাট, আমোদপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় যায়। এই সময়টাতেই আমাদের বাড়তি উপার্জন হয়।”শুধু পুরুষরাই নন, এই শিল্পের সঙ্গে সমানভাবে জড়িয়ে রয়েছেন গ্রামের মহিলারাও। সংসারের কাজ সামলে তাঁরাই মালার ফুল সাজানো, ফিটিং ও শেষ মুহূর্তের কাজগুলি করেন।
ভোর থেকে রান্নাবান্না, সংসারের দায়িত্ব সামলে আবার কাজে বসা, এভাবেই রাত ১১টা, কখনও ১২টা পর্যন্ত চলে তাঁদের কাজ। বিশ্বকর্মা পুজোর মরশুম যেন তাঁদের কাছে শুধু উৎসব নয়, সংসারে বাড়তি রোজগারেরও অন্যতম ভরসা। বছরের অন্য সময় অল্পবিস্তর কাজ চললেও এই সময়ের অপেক্ষাতেই থাকেন তাঁরা। শিল্পী মমতা দাস বলেন, “সংসারের সব কাজ সেরে সারাদিন এই কাজ করি। এখন খুব ব্যস্ততা, রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। বিশ্বকর্মা পুজোর জন্যই আমরা অপেক্ষা করে থাকি। এই সময় অনেক জায়গা থেকে অর্ডার আসে, সেই অনুযায়ী মালা তৈরি করে পাঠাতে হয়। আমরা ফুল-ফল সাজানো, ফিটিং সব কাজ করি।
তিনি আরও বলেন, এতে একটা সুবিধা হয়, স্বামীর কাছে হাত পাততে হয় না। নিজেরাই কিছু আয় করতে পারি। এই পুজো এলেই আমাদের হাতে একটু পয়সা-কড়ি থাকে, তাই খুব আনন্দ হয়।” বিশ্বকর্মা পুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই দুর্গাগ্রামের মালাকার পাড়ায় এখন যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। কারও হাতে রেশমের সুতো, কারও হাতে পাট, আবার কেউ ব্যস্ত রঙিন ফুল আর জরি সাজাতে। রাত বাড়লেও থামে না কাজ। কারণ এই কয়েকটা দিনই তাঁদের বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময়, আর এই ব্যস্ততার সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে বহু পরিবারের বাড়তি আয়ের আশা। কারখানা নয়, গ্রামের ঘরেই তৈরি হওয়া এই রংবেরঙের মালাগুলিই এবার বিশ্বকর্মা পুজোয় পৌঁছে যাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, দুর্গাগ্রামের ঘরে ঘরে বয়ে আনবে পরিশ্রমের সাফল্যের হাসি।
