মিড টার্ম ইলেকশনে রিপাবলিকানরা হেরে যাওয়ায় বর্তমানে কার্যত ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট হয়ে রয়ে গিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ কী এই ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট? কেন-ই বা তা বলা হয়? আসুন জেনে নেওয়া যাক৷
‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট বলতে এমন এক বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বোঝায়, যাঁর কার্যকালের শেষ পর্যায়ে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেকটাই কমে যায়।
কখন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়?
– এক মেয়াদের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে: যিনি পুনর্নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন অথবা ফের নির্বাচনে লড়তে পারবেন না, তাঁর ক্ষেত্রে নভেম্বরের নির্বাচন থেকে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের ২০ জানুয়ারি শপথগ্রহণ পর্যন্ত সময়কে ‘লেম ডাক’ পর্ব বলা হয়। এই পর্বে কার্যত প্রেসিডেন্টের হাতে কোনও ক্ষমতাই থাকে না, কারণ তাঁর হাতে থাকে না সেনেটের সমর্থন৷
– দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে: যিনি সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী মেয়াদসীমার কারণে আর নির্বাচনে লড়তে পারবেন না, তাঁর ক্ষেত্রে কার্যকালের শেষ দু’বছর জুড়েও এই পরিস্থিতি চলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে।
দু’বছরের টালমাটাল শাসনের পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনে সম্ভবত শুরু হতে চলেছে ‘লেম ডাক’ পর্ব৷ মিড টার্ম ইলেকশনে জয়ের পরে ডেমোক্র্যাটরা ফের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল ট্রাম্পের৷ এই নির্বাচনে সেই ট্রাম্পই ‘লেম ডাক প্রেসিডেন্ট’ তকমা এড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভোটারদের রায় স্পষ্টতই অন্য দিকে গিয়েছে। এবার, এই পর্বকে ঠিক কী ভাবে নিতে পারেন ট্রাম্প?
এর আগে নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা জিততে না পারলে সবকিছুতে ভেটো দেব।” অর্থাৎ, ছিল প্রতিহিংসাপরায়ণতার ইঙ্গিত৷ তারপরেও হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা যে ধরনের তদন্তই শুরু করুক, তার মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।
টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া আরও এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, “ওরা (ডেমোক্র্যাটরা) সম্ভবত আমার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে, আর আমিও ওদের বিরুদ্ধে করব।” সেই কারণে, এই পর্বে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে পারে, এমন সম্ভাবনা যেমন থাকছে—তেমনই যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবে, সেই সমস্ত ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই পর্বে তাঁর প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের (GWU) স্কুল অফ মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর পিটার লোজ সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নীরবে সবকিছু মেনে নিয়ে সরে যাবেন, এমনটা আমি বিশ্বাস করি না।”
তাঁর কথায়, “ইতিহাসে এমন কোনও নজির নেই, যা থেকে বলা যায়, তিনি বলবেন—‘আমি পরাজিত হয়েছি, আমার সময় শেষ।’ প্রতিবারই ট্রাম্প যখন কোণঠাসা হয়েছেন, তখন আরও বেশি করে সরব হয়েছেন এবং পাল্টা লড়াইয়ে নেমেছেন।”
বিদেশনীতি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট হলেও ট্রাম্পের হাতে বিস্তর ক্ষমতা থাকবে। তিনি চাইলে ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন। যদিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ট্রাম্প আশাবাদী ছিলেন যে, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে শান্তিচুক্তি সম্ভব হতে পারে।
বাণিজ্য নীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের অবস্থান যে খুব একটা বদলাবে না, তার ইঙ্গিত মিলেছে প্রতিবেশী কানাডার প্রতি তাঁর সাম্প্রতিক বিরূপ মনোভাব থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচারের আলোয় থাকতে ভালোবাসেন ট্রাম্প। তাই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের দিকে যাতে রাজনৈতিক নজর না সরে যায়, সেই চেষ্টাও তিনি চালিয়ে যেতে পারেন। তবে আদতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেস, বর্তমানে যেখানে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য, তাদের সমর্থনের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে ট্রাম্পকে৷
