Last Updated:
Medical Negligence: ৪ বছরের শিশু অরণ্য রায়ের ফাইমোসিস অস্ত্রোপচারের পর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় বর্ধমান! অভিযোগ, কথা দেওয়া চিকিৎসককে বাদ দিয়ে অন্য চিকিৎসককে দিয়ে অস্ত্রোপচার ও অ্যানেস্থেশিয়ার ভুল প্রয়োগেই প্রাণ গেছে শিশুটির। সুবিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষী নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবিতে বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে কান্নায় ভেঙে পড়ে অবস্থান-বিক্ষোভে বসলেন নিহতের পিতা জয়ন্ত রায় ও পরিজনেরা।
বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: বর্ধমানে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার সুবিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন মৃত শিশুর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা। মৃত শিশুর বাবা জয়ন্ত রায় জানান, তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার রামজীবনপুরের বাসিন্দা। গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁর চার বছরের ছেলে অরণ্য রায়কে ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচারের জন্য বর্ধমানের নবাবহাট মোড় সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, নির্দিষ্ট চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত অন্য চিকিৎসককে দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, শিশুটিকে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা ও অভিভাবকের সম্মতি সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। গোটা শরীর নীল হয়ে যায় এবং শিশুটি ছটফট করতে থাকে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁরা বারবার চিকিৎসকের খোঁজ করলেও দ্রুত চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। তাঁদের অভিযোগ, শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ডাকার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর মৃত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ধমান সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে পরিবার। পাশাপাশি, ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও উঠেছে নার্সিংহোমের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষ। থানার তরফে বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হলে পরিবারের সদস্যরা বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনতে হবে। চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নার্সিংহোমের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

