Last Updated:
Shola Shilpo: উৎসবের মরশুমে প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়াতে মঙ্গলকোটের বনকাপাসি গ্রামের শোলার কারুকাজ অতুলনীয়। ঐতিহ্যবাহী ডাকের সাজ থেকে শুরু করে আধুনিক নকশা, বিশ্বমঞ্চে আজও অমলিন এখানকার শিল্পীদের খ্যাতি।
মঙ্গলকোট, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: মঙ্গলকোটের বনকাপাসি, পূর্ব বর্ধমানের এই গ্রাম আজ বাংলার শোলা শিল্পের অন্যতম পরিচিত ঠিকানা। বিশেষ করে দুর্গাপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রতিমার সাজসজ্জায় বনকাপাসির তৈরি শোলার কাজের দীর্ঘদিনের চাহিদা রয়েছে। তবে এই শিল্পের শিকড় কতটা পুরনো, তা নিয়ে স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ইতিহাস ও স্মৃতি।
গ্রামের শিল্পী অভিজিৎ সাহার কথায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে বনকাপাসিতে শোলার কাজের সূত্রপাত হয়েছিল। সে সময় অবশ্য আজকের মতো বড় আকারে কারখানা বা বৈচিত্র্যময় কাজ ছিল না। কলকা, ঠাকুরের ডাকের সাজ-সহ অল্প কিছু সামগ্রী তৈরি করেই চলত এই শিল্প। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে কাজের পরিধি বাড়ে। অভিজিৎ সাহার দাবি, প্রায় ৫০ বছর আগে থেকে বনকাপাসিতে শোলার কাজ অনেক বেশি বিস্তৃত হতে শুরু করে। একটি পরিবার থেকে ক্রমে বহু পরিবার এই পেশায় যুক্ত হয়।
তবে নথিভুক্ত শিল্প-ইতিহাসে বনকাপাসির শোলা শিল্পের প্রসারের সঙ্গে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের উল্লেখ পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রতিমার ‘ডাকের সাজ’ বনকাপাসির শোলা শিল্পকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রতিমাতেও বনকাপাসির তৈরি শোলার সাজের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন নথি ও প্রতিবেদনে বনকাপাসিকে ডাকের সাজ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সময় বদলের সঙ্গে বদলেছে শিল্পীদের কাজও।
অভিজিতের কথায়, অপেক্ষাকৃত সরল নকশার কাজ বেশি চললেও এখন ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিজাইন তৈরি করতে হয়। বিশেষ করে চন্দননগর থেকে বিভিন্ন কমিটি ও পুজো উদ্যোক্তাদের দেওয়া নকশা অনুযায়ী কাজ করতে হয় শিল্পীদের। ফলে পুরনো ধারার পাশাপাশি নতুন নকশা ও আধুনিক সাজসজ্জার কাজও ঢুকে পড়েছে বনকাপাসির শিল্পে। একসময় এই পেশায় সারা বছর কাজ পাওয়া গেলেও এখন সেই পরিস্থিতি নেই বলে দাবি শিল্পীদের। অর্ডার কমে যাওয়ায় কাজের গতি কমেছে। তার প্রভাব পড়ছে নতুন প্রজন্মের উপরও।
অভিজিৎ সাহার কথায়, সারা বছর কাজ ও পর্যাপ্ত মজুরি না থাকায় গ্রামের তরুণদের অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজের দিকে চলে যাচ্ছেন। ফলে কয়েক প্রজন্মের হাতে তৈরি বনকাপাসির ঐতিহ্যবাহী শোলা শিল্প আজ একদিকে যেমন বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ, অন্যদিকে তেমনই নতুন প্রজন্মকে এই পেশায় ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখেও দাঁড়িয়ে।
