Last Updated:
Kali Puja 2026: দক্ষিণবঙ্গের প্রসিদ্ধ কালীমন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম বর্ধমানের বোরহাটের সাধক কমলাকান্ত কালীবাড়ি। বর্ধমানের মহারাজ তেজচাঁদ কমলাকান্তের জন্য এই কালীমন্দির নির্মাণ করান। এখানেই সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন সাধক কমলাকান্ত। মৃত্যুর পর তাঁর সমাধির উপরেই প্রতিষ্ঠা করা হয় মা কালীর বিগ্রহ।
পূর্ব বর্ধমান: মহারাজ জানতে চাইলেন, “এত যে মা মা করো, তোমার মা কি শুনতে পান? তাঁর প্রাণ আছে?” সাধক কমলাকান্ত বললেন, “হ্যাঁ, আছে।” বর্ধমানের মহারাজ তেজচাঁদ প্রমাণ চাইলেন। থমকে গেলেন সাধক। রাজা বারবার জোর করতে থাকলেন। কিছুটা রেগেই মা কালীর পায়ে বেলকাঁটা ফুটিয়ে দিলেন সাধক কমলাকান্ত। রাজা বিস্ফারিত চোখে দেখলেন, ঝরঝর করে রক্ত ঝরছে সেখান থেকে। এমনই অনেক অলৌকিক কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে বর্ধমানের কমলাকান্ত কালীবাড়িকে ঘিরে।
দক্ষিণবঙ্গের প্রসিদ্ধ কালীমন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম বর্ধমানের বোরহাটের সাধক কমলাকান্ত কালীবাড়ি। বর্ধমানের মহারাজ তেজচাঁদ কমলাকান্তের জন্য এই কালীমন্দির নির্মাণ করান। এখানেই সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন সাধক কমলাকান্ত। মৃত্যুর পর তাঁর সমাধির উপরেই প্রতিষ্ঠা করা হয় মা কালীর বিগ্রহ। সেই আমল থেকেই মন্দিরে নিত্যপুজো হয়ে আসছে। এখানে রয়েছে কমলাকান্ত প্রতিষ্ঠিত কালভৈরব এবং পঞ্চমুণ্ডির আসন। দীপান্বিতা কালীপুজোয় এখানে অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে।
কমলাকান্তের গানে মুগ্ধ হয়ে বর্ধমানের মহারাজ তেজচাঁদ তাঁকে সভাপণ্ডিত হিসেবে বর্ধমান রাজবাড়িতে নিয়ে যান। সেখানেই রাজা তেজচাঁদ কমলাকান্তের তন্ত্রসাধনার কথা জানতে পারেন। রাজার উদ্যোগেই কমলাকান্তের সাধনার জন্য তৈরি হয় এই কালীমন্দির। বাঁকা নদীর ধারে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে তন্ত্রসাধনা করতেন সাধক-কবি কমলাকান্ত।কমলাকান্তের তন্ত্রসাধনাকে কেন্দ্র করে নানা লোককথা ছড়িয়ে রয়েছে। নিন্দুকেরা একদিন রাজাকে খবর দিলেন, কাজকর্ম ভুলে মদ্যপান করছেন কমলাকান্ত। রাজা সেখানে পৌঁছে ক্ষোভ প্রকাশ করলে কমলাকান্ত কমণ্ডলু থেকে রাজার হাতে সুরা ঢেলে দেন। কমলাকান্তের অলৌকিক ক্ষমতায় সেই সুরা পরিণত হয় দুধে। রাজা বারবারই প্রমাণ পেয়েছেন কমলাকান্তের আশ্চর্য অলৌকিক ক্ষমতার।
দেহত্যাগের সময় কমলাকান্তকে গঙ্গায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন রাজা। কিন্তু কমলাকান্ত যেতে চাননি। এরপরই দেখা যায়, মাটি ভেদ করে উঠে আসছে জলের ধারা, যা পড়ছে কমলাকান্তের মুখে। লোককথা অনুযায়ী, কমলাকান্ত নিজে যেতে না চাওয়ায় মা গঙ্গা এসেছিলেন তাঁর কাছে। যে জায়গা থেকে এই জলধারা উঠেছিল, সেই স্থান বাঁধিয়ে তৈরি করা হয় একটি কুয়ো। সেই কুয়োর জল আজও গঙ্গাজল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পুজো এবং ভোগ রান্নার কাজেও ব্যবহৃত হয় এই জল। মৃত্যুর পর মন্দিরেই সমাধিস্থ করা হয় কমলাকান্তকে। তাঁর সমাধির উপরেই রয়েছে মায়ের বেদি। সারা বছর কষ্টিপাথরের প্রতিমার পুজো হয়। দীপান্বিতা কালীপুজোয় তিন দিন ধরে উৎসব চলে এখানে।

