Last Updated:
আইনি রক্ষাকবচ পেয়ে দেশে ফিরে টুলু যাতে প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রভাবিত না করেন এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না করেন, সে বিষয়েও শীর্ষ আদালত যাতে নির্দেশ দেয়, সেই অনুরোধও করেন সলিসিটর জেনারেল।
আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টুলু মণ্ডলকে ভারতে ফেরার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শী নাগুর বেঞ্চের নির্দেশ ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করবে না পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। ইতিমধ্যেই পরিবার নিয়ে টুলু মণ্ডল দুবাই চলে গিয়েছেন৷
পাথর পাচার এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জশিট জমা দিয়েছে বীরভূম জেলা পুলিশ৷ সরকারি কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই ডিসিআর ফাঁকি দিয়ে টুলু মণ্ডল ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই ১০০ কোটিরও বেশি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিতেন বলে অভিযোগ৷ সবমিলিয়ে সেই পরিমাণ ৮৫০ কোটি টাকার আশেপাশে৷
পাথর পাচার মামলায় পুলিশি তৎপরতা এবং ধরপাকড় শুরু হতেই গা ঢাকা দেন টুলু মণ্ডল৷ শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতে টুলু মণ্ডলের আইজীবী মুকুল রোহতগী এ দিন জানান, রক্ষাকবচ পেলে দেশে ফিরতে তৈরি টুলু৷ তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ পদক্ষেপ করছে করছে বলেও অভিযোগ করেন টুলু মণ্ডলের আইনজীবী। মুকুল রোহতগী আরও দাবি করেন, ‘টুলু মণ্ডল দাউদ ইব্রাহিম নন। তিনি দেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে দুবাইতে বৈধ ব্যবসা করছেন।’
এই সওয়ালের প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের বক্তব্য জানতে চান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং শীল নাগুর বেঞ্চ। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আশ্বাস দেন, দেশে ফিরলে আপাতত তিন সপ্তাহ টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে।
এরপরই ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টুলু মণ্ডলকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত আরও জানায়, ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত টুলুকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে পরবর্তী রক্ষাকবচের জন্য স্থানীয় আদালতে আবেদন করতে হবে।

