Last Updated:
মিডটার্ম নির্বাচনের আগে সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৫৩টি রিপাব্লিকানদের দখলে ছিল৷ ৪৭টি ছিল ডেমোক্র্যাটদের দখলে৷ ২০২০ সালের পর এই প্রথমবার মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষের দখল নিল ডেমোক্র্যাটরা৷
মার্কিনরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন৷ মিড টার্ম নির্বাচনে রিপাব্লিকানদের হার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড়সড় ধাক্কার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এমনই দাবি করলেন আমেরিকার সঙ্গে ইরানের মুখ্য মধ্যস্থতাকারী মহম্মদ বাঘার ঘালিবাফ৷
আমেরিকারি মিড টার্ম নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ সেনেট এবং হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর দখল নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা৷ ফলে প্রেসিডেন্ট পদে থাকলেও শেষ দু বছরে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷
মার্কিন মিড টার্ম নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসার পরই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ইরানের মুখ্য মধ্যস্থতাকারী মহম্মদ বাঘার ঘালিবাফ লেখেন, ‘অনুশোচনা অথবা মূল্যবৃদ্ধি, কারণ যাই হোক না কেন মার্কিনরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন৷ আমরা এই অবস্থানকে সমর্থন করি৷ আন্তর্জাতিক স্তরে যারা তাদের ব্ল্যাকমেল করছে, তাদের কথায় যদি আমেরিকার সরকার মানুষের এই ইচ্ছের সঙ্গে প্রতারণা করে তাহলে তারা বুঝতে পারবে যে আমাদের পক্ষ থেকে না বলা হলে সেটা দুঃস্বপ্নের মতো মনে হবে৷’
Conscience or the cost of living, Americans said NO TO WAR, and we endorse this message.
If the US govt betrays their public will to serve international paymasters and blackmailers, it will learn our NO comes with a Nightmare.
— محمدباقر قالیباف | MB Ghalibaf (@mb_ghalibaf) November 4, 2026
মিড টার্ম নির্বাচনে শুধু মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের দখল নেওয়া নয়, রিপাব্লিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বহু আসনেই ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা৷ ফলে দু বছর শাসন করার পরই জোরাল ধাক্কা খেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ বিশেষত, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনড় মনোভাব, অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর এই ফল ট্রাম্পের জন্য যথেষ্টই অস্বস্তির, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে অঞ্চলগুলি থেকে ট্রাম্প বিপুল সমর্থন পেয়েছিলেন, মাত্র দু বছরের মধ্যে মিড টার্ম নির্বাচনে সেই সমস্ত জায়গাতেই সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে৷
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর হামলা করে আমেরিকা এবং ইজরায়েল৷ তার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ ইজরায়েলের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর৷ পাল্টা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান৷ হরমুজ প্রণালীও অবরুদ্ধ করে রেখে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ তৈরির চেষ্টা শুরু করে ইরান৷ যার জেরে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ে গোটা বিশ্বেই অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করে৷
মিডটার্ম নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন, ভোটে খারাপ ফলের অন্যতম কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত৷ ফক্স নিউজকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এরকম ফল হওয়ার অন্যতম কারণ অবশ্যই ইরান৷ কিন্তু ইরানের সঙ্গে আমি যা করেছি সেই বিষয়টিও মানুষ বুঝতে পেরেছে৷ প্রসঙ্গত ফক্স নিউজ- এর সমীক্ষাতেই উঠে আসে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ এবং তার জেরে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন ভোটাররা৷

