Last Updated:
Gambling: কালীপুজোর রাতে জুয়ার সর্বনাশা নেশায় নিঃস্ব বহু পরিবার! হাওড়ার পাঁচলায় এই প্রথা ভাঙতে কোমর বেঁধে সবরকম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সেরে রেখেছে পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় সংগঠনগুলি। পাঁচলায় রাত জেগে পাহারা দেবেন পুলিশ কর্মীরাও।
হাওড়া, রাকেশ মাইতি: কালীপুজো মানেই আলোর উৎসব, শ্যামা মায়ের আরাধনা আর আতশবাজির আনন্দ। কিন্তু এই আনন্দ উৎসবের নেপথ্যে, বহু পরিবার হয়ে যায় নিঃস্ব। টাকা জেতার আসায়, কেউ সংসারে চালানোর টাকা ,কেউ স্ত্রীর গয়না, কেউ বা মেয়ের বিয়ের গয়না পর্যন্ত খুইয়ে ফেলে নেশার চোটে। বছরের পর বছর ধরে গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্তে চলে আসছে এক অন্ধকারময় প্রথা। পুজোর কয়েকদিন রাতের আঁধারে গ্রামের অলিগলি, রাস্তার ধার কিংবা নির্জন এলাকায় বসে জুয়ার আসর। জুয়ার এই সর্বনাশা নেশায় মেতে প্রতি বছর নিঃস্ব হয় বহু পরিবার, নষ্ট হয় সামাজিক শান্তি। তবে এবার আর সেই সুযোগ মিলবে না।
এই চিরাচরিত সমাজবিরোধী প্রথা ভাঙতে একযোগে কোমর বেঁধে নামছে পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় ক্লাব, সমাজসেবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। জানা গিয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে জুয়ার আসর রুখতে পাঁচলাজুড়ে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নির্জন ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে চলবে নৈশ টহল। পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি এবার সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন স্থানীয় ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। জুয়ার ঠেক বসতে পারে, এমন সম্ভাব্য এলাকাগুলিতে রাত জেগে পাহারা দেবেন তাঁরা।
সমাজসেবীরা জানান, জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি অনেক পরিবারকে পথে বসিয়ে দেয়। উৎসবের আড়ালে এই বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবসমাজকেও এই বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় মানুষের এই যৌথ লড়াইয়ে এবার পাঁচলার কালীপুজোয় জুয়ার রমরমা পুরোপুরি বন্ধ হবে বলেই আশা করছেন এলাকার সচেতন নাগরিকেরা। একটি সুস্থ ও অপরাধমুক্ত উৎসবের নতুন আলো দেখতে চলেছে পাঁচলা। পাঁচলা থানায় অনুষ্ঠিত বিজিয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই পুলিশ, ক্লাব প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সমাজসেবীরা এই জুয়ার মত সমাজ বিরোধী কাজ বন্ধের বার্তা দেন।
হাওড়ার পাঁচলা থানায় বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আসন্ন কালীপুজোকে কেন্দ্র করে পুলিশের প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা। তিনি জানান, কালীপুজোয় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের নজরদারি থাকবে। জুয়ার মতো সমাজবিরোধী কাজ চলছে এমন দৃশ্য দেখলে ১১২ নম্বরে ডায়াল করে, জানাতে পারবে সাধারণ মানুষ। অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পুলিশ। উৎসবের দিনগুলিতে সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আবেদন জানান।
