Headlines

East Bardhaman News: ১৫ কেজি ওজনের এক তাগড়াই পাঁঠা! এক গুঁতোয় জখম ২৫, অপারেশন করতে হল এক বৃদ্ধারও | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়াতে ‘কালু’ নামের একটি পাঁঠার আক্রমণে ২৫ জন জখম হয়েছেন, যার মধ্যে এক বৃদ্ধাকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। পাঁঠার ভয়ে ছোটরা স্কুলে যেতে এবং বড়রা দোকান-বাজারে যেতে ভয় পাচ্ছে।

+

এলাকার

এলাকার ত্রাস কালু৷ AI Generated Image

কাটোয়া, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: গ্রামে চোর নেই, ডাকাত নেই, তবু সন্ধ্যা নামলেই রাস্তা কার্যত ফাঁকা! কারণ, রাস্তার মোড়ে-মোড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘কালু’। তবে সে কোনও মানুষ নয়, প্রায় ১৫ কেজি ওজনের এক তাগড়াই পাঁঠা। তাকে সামনে দেখলেই পথ বদলাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। আর ভুল করে তার নাগালের মধ্যে চলে গেলেই বিপদ! গত কয়েক দিনে তার গুঁতোয় কমপক্ষে ২৫ জন জখম হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এমনকী, এক বৃদ্ধাকে গুরুতর চোট নিয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে। পাঁঠার ভয়ে ছোটরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে, বড়রা দোকান-বাজারে যাওয়ার আগে রাস্তা দেখে নিচ্ছেন।

গ্রামবাসী মঞ্জু গুঁই বলেন, “আমার সঙ্গে ওই পাঁঠার ধস্তাধস্তি হয়েছে। আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম ওই পাঁঠার গুঁতোতে। এখন বাইরে বেরোতেও ভয় লাগছে, চারপাশ দেখে নিয়ে তারপর বেরোচ্ছি।”ঘটনার কেন্দ্র কাটোয়া-২ নম্বর ব্লকের জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের ঘোড়ানাশ ও মুস্থুল গ্রাম। পাশাপাশি থাকা এই দুই গ্রামে তাঁতশিল্পীর পাশাপাশি বহু প্রান্তিক পরিবারের বসবাস।

সেখানেই এখন কার্যত ‘ভিআইপি’ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কালু, তবে এই ভিআইপি-কে কেউ কাছে পেতে চাইছেন না! কখনও দোকানে যাওয়ার পথে, কখনও বাজারমুখী রাস্তায়, আবার কখনও স্কুলে যাওয়ার সময় আচমকাই সামনে এসে পড়ছে পাঁঠাটি। তারপর শুরু হচ্ছে তাড়া। তার শিংয়ের গুঁতোয় ইতিমধ্যেই বহু মানুষ জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ। আতঙ্ক এতটাই বেড়েছে যে, সামাজিক মাধ্যমেও কালুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে সতর্ক করছেন গ্রামের বাসিন্দারা।

গ্রামবাসী শ্যামল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার খুবই খারাপ লাগছে এই ঘটনায়। মানসিক ছিল বলেই ছেড়েছিলাম, তবে ওকে তো আমরা কেউ শিখিয়ে দিনই। কেন যে এরকম করছে জানিনা। গ্রামের মানুষ সত্যিই অতিষ্ঠ।” তবে কালুর এই ‘কীর্তি’ যে একদিনে তৈরি হয়নি, তারও একটা গল্প রয়েছে।

জানা গিয়েছে, ঘোড়ানাশ গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেই প্রায় পাঁচ বছর আগে জন্মেছিল পাঁঠাটি। স্ত্রী বাণী চট্টোপাধ্যায়ের মানতের পাঁঠা হিসেবে মাকালীর কাছে উৎসর্গ করে সেটিকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন ছোট্ট কালু ছিল আদরের। বছর ঘুরতে ঘুরতে সেই কালুই এখন দুই গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের নাম।

শ্যামলবাবুর কথাতেও ধরা পড়েছে অসহায়তা, পাঁঠাটি প্রতিদিন কাউকে না কাউকে আক্রমণ করছে, অথচ তিনিও জানেন না কীভাবে এই পরিস্থিতির সমাধান হবে। ফলে ষাঁড়ের গুঁতো নয়, এবার তাগড়াই পাঁঠার দাপটেই কার্যত ‘রাস্তা ছাড়া’ কাটোয়ার দুই গ্রামের মানুষ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *