Headlines

Diwali Animal Safety: শব্দবাজি ও আলোর ঝলকানিতে প্রাণীদের কী ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয় জানেন? দীপাবলির আগে বিশেষ আবেদন পশুপ্রেমী সংগঠনের | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

Diwali Animal Safety: শুধু শব্দ বা ধোঁয়া নয়, অসাবধানতাবশত বাজি ফাটানোর ফলে রাস্তার কুকুর-বিড়াল এবং অন্যান্য প্রাণীর শরীর পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কখনও মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার হয় নিরীহ প্রাণীরা। ফলে উৎসবের আনন্দের আড়ালে তাদের জন্য তৈরি হয় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি।

শব্দবাজি ও আলোর ঝলকানিতে প্রাণীদের কী ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয় জানেন? (AI Generated image)
শব্দবাজি ও আলোর ঝলকানিতে প্রাণীদের কী ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয় জানেন? (AI Generated image)

বর্ধমান: দীপাবলি ও কালীপুজো মানেই আলো, আনন্দ আর উৎসবের আবহ। কিন্তু মানুষের এই উৎসবই বহু অবলা প্রাণীর কাছে হয়ে ওঠে আতঙ্কের কারণ। শব্দবাজির বিকট আওয়াজ এবং আতশবাজির তীব্র আলোর ঝলকানিতে শুধু পোষ্য কুকুর-বিড়াল নয়, বিপদের মুখে পড়ে রাস্তার পশু, পাখি এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীরাও। উৎসবের আনন্দ যাতে নিরীহ প্রাণীদের যন্ত্রণার কারণ না হয়ে ওঠে, সেই আবেদন জানাল বর্ধমান সোসাইটি ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার।

সংস্থার সদস্যদের বক্তব্য, শব্দবাজি ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর বেআইনি শব্দবাজির ব্যবহার দেখা যায়। তাঁদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু দিল্লি-এনসিআর নয়, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নির্দিষ্ট শর্ত মেনে অনুমোদিত সবুজ বাজি ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও চকলেট বোমা, দোদমা ও চেন ক্র্যাকার-সহ উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী বাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ।

বর্ধমান সোসাইটি ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ারের সেক্রেটারি রিনা দাঁ বলেন, “কালীপুজো ও দীপাবলির আনন্দের সময়ে বেআইনি তীব্র শব্দবাজি এবং আলোর ঝলকানি মানুষের কাছে উৎসবের আমেজ নিয়ে এলেও পোষ্য কুকুর-বিড়াল, পাখি এবং রাস্তার অবলা প্রাণীদের কাছে তা চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের তুলনায় অনেক প্রাণীর শ্রবণশক্তি বেশি সংবেদনশীল। ফলে বাজির আকস্মিক ও বিকট শব্দ তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।” বিশিষ্ট পরিবেশবিদ তথা জাতীয় শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্তের বক্তব্য, শব্দবাজি ও তীব্র আলো জীবজন্তুর মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। বাজির আকস্মিক আওয়াজে কুকুর, বিড়াল-সহ বিভিন্ন প্রাণী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। শব্দের উৎস বুঝতে না পেরে তারা ঘরের কোণে, খাটের নীচে, বাথরুমে কিংবা গাড়ির নীচে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে।

এর প্রভাব শুধু মানসিক আতঙ্কেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অতিরিক্ত ভয়ের কারণে প্রাণীদের হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত লালা ঝরা, শরীর কাঁপা, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, বমির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। প্রবল শব্দের অভিঘাত বয়স্ক মানুষ এবং হৃদরোগীদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে জানান তিনি। বাজির শব্দে দিকভ্রান্ত হয়ে দুর্ঘটনার কবলেও পড়ে বহু প্রাণী। আতঙ্কে রাস্তার কুকুর ও বিড়াল ছুটোছুটি করতে গিয়ে গাড়ির তলায় চাপা পড়ে। অনেক পোষ্য আবার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং নিখোঁজ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, আতশবাজির উচ্চ শব্দে প্রাণীদের শ্রবণশক্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এমনকী কানের পর্দার স্থায়ী ক্ষতি থেকে সাময়িক বা দীর্ঘস্থায়ী বধিরতাও দেখা দিতে পারে।

দীপাবলির রাতে সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়ে গাছে আশ্রয় নেওয়া পাখিরা। বাজির বিকট শব্দ ও আলোর ঝলকানিতে আতঙ্কিত হয়ে তারা অন্ধকারে উড়তে শুরু করে। দিশা হারিয়ে বাড়ি, গাছপালা কিংবা বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে আহত হয় অনেক পাখি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। পাশাপাশি আতশবাজির বিষাক্ত ধোঁয়া তাদের শ্বাসযন্ত্রের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পরিযায়ী পাখিদের স্বাভাবিক চলাচল ও অভিবাসনের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

শুধু শব্দ বা ধোঁয়া নয়, অসাবধানতাবশত বাজি ফাটানোর ফলে রাস্তার কুকুর-বিড়াল এবং অন্যান্য প্রাণীর শরীর পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কখনও মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার হয় নিরীহ প্রাণীরা। ফলে উৎসবের আনন্দের আড়ালে তাদের জন্য তৈরি হয় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি। তাই দীপাবলিতে শব্দবাজি এড়িয়ে চলা, অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব বাজি ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা এবং পোষ্য ও রাস্তার প্রাণীদের নিরাপদে রাখার আবেদন জানিয়েছে বর্ধমান সোসাইটি ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার। উৎসবের আনন্দ যেন কোনও অবলা প্রাণীর আতঙ্ক, যন্ত্রণা কিংবা মৃত্যুর কারণ না হয়ে ওঠে, সেই বার্তাই দিতে চাইছে পশুপ্রেমী সংগঠন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *