Last Updated:
Samik on Abhishek: অভিষেকের আরও অভিযোগ, “আমরা আশঙ্কা করছি যে গুন্ডারাই ভাঙচুরটা করেছে,তারা হয়তো কিছু প্ল্যান্ট করে যাবে। এই চিঠিটা আমরা ২২ মে ইমেইল করে পাঠিয়েছি, আজ থেকে সাড়ে ৫ মাস আগে। সাড়ে ৫ মাস পরে হঠাৎ পুলিশের মনে হলো, একটা ক্রাইম সিন, যেখানে পুলিশ গিয়ে ইনভেস্টিগেট করেছে, যেটা পুলিশের তত্ত্বাবধানে, যেটা পুলিশের কন্ট্রোলে, যেটা প্লেস অফ অফেন্স, সেখানে নিয়ে গিয়ে হঠাৎ করে নাকি ১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। কোনওদিন শুনেছেন?”
কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে ‘দুর্বল চিত্রনাট্য’ বলে তোপ দেগেছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ঘটনার বিশদ ব্যাখ্যাও দিতে দেখা যায় তাঁকে৷ অভিষেকের সেই মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবার কড়া কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য৷
শমীক ভট্টাচার্য বলে ওঠেন, ‘‘সেবাশ্রয়টা কী ছিল? পুরো ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কংগ্রেসের সকলের জেলে ঢুকে যাওয়া উচিত৷ নিরপরাধ মানুষকে খুন, ২০১৯ এর নির্বাচন মানুষ ভোলেননি৷ প্রার্থীকে গণনাকেন্দ্রের মধ্যে পিটিয়ে খুন, এগুলো তৃণমূল কংগ্রেসের দান৷ কেউ পার পাবেন না৷ সমস্ত অপরাধীকে ঠিক সময়ে পাতালে ঢুকে বের করে আনা হবে৷’’
কালীঘাটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “কাল থেকে যে খবরটা চলছে যে সরিষায় ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল কংগ্রেসের একটা পার্টি অফিস, সেখানে আমার আত্মসহায়ক, সুমিত রায় তাঁকে গত ৩১ তারিখ কালিতলা আসুতির একটা কেসে কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে,তাঁকে নিয়ে নাকি রেইড করে একটা পার্টি অফিস থেকে ১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ কতটা অপদর্থ হলে এই দুর্বল চিত্রনাট্য রচনা করতে পারে।”
ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, “২২ মে আমরা একটা অভিযোগ করেছিলাম ওসি ডায়মন্ড হারবার থানায়। ওসিকে অ্যাড্রেস করে একটা চিঠি দিয়েছিলাম। তারা এই চিত্রনাট্যটা বানানোর আগে এই চিঠিটার কপি হয়তো দেখেনি, বা ভুলে গেছে। ২২ মে এই চিঠিটা দেওয়া হয়েছে ইমেইল-এর মাধ্যমে।” এরপর রিসিভিং কপিও দেখান তিনি। বলেন, “২৩ তারিখের চিঠিটা রিসিভ করা হয়, আর ২২ তারিখ ই-মেইল করা হয়। ২১ তারিখ এই পার্টি অফিসের মালিক ছিলেন, তাঁকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হয় দুপুরবেলায়। আমরা চিঠিতে সেটা মেনশন করেছি। ২১ তারিখ-২২ তারিখ মধ্যরাতে, রাতের ১টা-দেড়টা নাগাদ, বিজেপির গুন্ডারা এই পার্টি অফিসে ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালায়।”
অভিষেকের অভিযোগ, আইসি-র গাড়িতে টাকা নিয়ে গিয়ে অফিসে রাখা হয়েছিল। এই বিষয়ে অভিষেক বলেন, “৩ তারিখ পার করে ৪ তারিখ ১২টার পর, রাত ১টা থেকে রাত ৩টের মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের আইসি যে কালো এক্সইউভি ৩০০ ব্যবহার করেন, সেই এক্সইউভি ৩০০-এ করে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনি যে গেছেন, তার ভিডিও আমার কাছে আছে।”
পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, “আমার কাছে ফুটেজ রয়েছে। আপনি মামলা করুন, আমি কোর্টে জমা দেব। আপনার গাড়ি সেখানে দাঁড় করিয়ে টাকার ব্যাগ নামানো হয়েছে রাত ১টা থেকে ৩টা অবধি। আপনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন। আইসির গাড়ি থেকে টাকার ব্যাগ নামিয়ে সেখানে প্ল্যান্ট করা হয়েছে। পুরো প্ল্যানিংটা করেছে এসপি ডায়মন্ড হারবার। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” এদিন সোশাল মিডিয়ায় একটি গাড়ির ছবিও শেয়ার করেন অভিষেক। এই ঘটনায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

