Last Updated:
পরিবারের দাবি, পরীক্ষার রিপোর্টে প্রসূতির পেটের ভিতরে বহিরাগত সামগ্রীর উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর তড়িঘড়ি তাঁকে অন্য একটি নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। সেখানেই পেটের ভিতর থেকে তুলো ও সেলাইয়ের সুতো বের করা হয় বলে অভিযোগ।
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: সিজারের অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটের ভিতরে তুলো ও সেলাইয়ের সুতো রয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অন্য একটি নার্সিংহোমে ফের অস্ত্রোপচার করাতে হয় ওই প্রসূতিকে। পরিবারের দাবি, দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর পেটের ভিতর থেকে তুলো ও সুতো বের করা হয়। অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে নার্সিংহোম চত্বরে বিক্ষোভ দেখান রোগীর পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় রঘুনাথগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১২ নম্বর জরুরি হেল্পলাইনেও অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুতি থানার রামকান্তপুরের বাসিন্দা রচনা চৌধুরীকে গত ২২ অক্টোবর রঘুনাথগঞ্জের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। ওই দিন রাত ১২টা নাগাদ চিকিৎসক রাহুল মোদক তাঁর সিজারের অস্ত্রোপচার করেন। এরপর ২৬ অক্টোবর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর থেকেই তাঁর রক্তপাত বন্ধ হচ্ছিল না বলে অভিযোগ।
প্রসূতির স্বামী রাহুল সাহার অভিযোগ, রক্তপাতের বিষয়টি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রথমে কোনও সাড়া মেলেনি। পরে স্ত্রীকে ফের নার্সিংহোমে নিয়ে গেলে পরীক্ষা করে শুধু ড্রেসিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়। টানা আট-নয় দিন ড্রেসিং চললেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং শরীরে রক্তের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে কমতে থাকে।এরপর চিকিৎসক প্রদীপ মিশ্রের পরামর্শে একাধিক পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষার রিপোর্টে প্রসূতির পেটের ভিতরে বহিরাগত সামগ্রীর উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর তড়িঘড়ি তাঁকে অন্য একটি নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। সেখানেই পেটের ভিতর থেকে তুলো ও সেলাইয়ের সুতো বের করা হয় বলে অভিযোগ। অস্ত্রোপচারের সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক ফোনে কথা বলছিলেন বলেও দাবি করেছেন প্রসূতির স্বামী।
পরিবারের সদস্য রানা দাস বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা কোনও দায় নিতে চাইছেন না। বরং পুরো দায় চিকিৎসকের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। বর্তমানে অন্য একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রচনা। তাঁকে রক্তও দিতে হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে খবর। অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে সুতি থানাতেও বিস্তারিত অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক রাহুল মোদক এবং সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
