Last Updated:
Bangla News: ভালবাসার টানে সংসার ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে গোয়া! কর্ণাটক থেকে ফেরার সময় পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে বাইক থেকে পড়ে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুতে আটক প্রেমিক।
সৈকত শী, তমলুক: প্রেম মেনে নেয়নি বাড়ির লোক। দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে মোটর বাইকে করে গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা। কর্ণাটক হয়ে গোয়া যাওয়ার পথে মেয়ের বাড়ি থেকে ফোন আসে। মেনে নেয় সম্পর্ক। ফের কর্ণাটক থেকে ওড়িশা হয়ে আবার দক্ষিণ দিনাজপুরে ফিরে আসার পথে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোটর বাইক থেকে পড়ে যায় প্রেমিকা। উদ্ধার করে নিয়ে যা হয় তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে। সেখানেই মারা যায় ওই ওই যুবতী। পরবর্তীতে তমলুক থানার পুলিশ ছেলেটিকে আটক করে এবং স্বতঃপ্রণীত মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।
মৃত ওই মহিলার নাম যুথিকা প্রামাণিক (৩২)। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি এলাকায়। পূর্ব ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে কোলাঘাট থানা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহারুল সরকার নামে এক যুবকের বাইকে চড়ে কর্ণাটক থেকে বাড়ি ফিরছিলেন যুথিকা। আরও জানা যায় মৃত ওই মহিলাকে পরিবার থেকে আগে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে শাহারুলের সঙ্গে। এই সম্পর্কের কথা বাপের বাড়ি পরিবারের লোক মানতে পারিনি। তাই প্রেমিক শাহারুলের সঙ্গে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেইমতো দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে প্রেমিকের মোটর বাইকে চেপে গোয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে।
কর্ণাটক হয়ে গোয়া যাওয়ার রাস্তায় বাবার বাড়ি থেকে যুথিকার কাছে ফোন যায়। তারও শাহারুলের এই অবৈধ সম্পর্ক মেনে নেয় বাবা-মা, বলে জানিয়েছেন প্রেমিক শাহারুল। ফলে তারা কর্ণাটক থেকে ওড়িশা হয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার অন্তর্গত দেউলিয়ার চলন্ত বাইক থেকে পড়ে যায় যুথিকা। এমনটাই দাবি ওই প্রেমিক যুবকের। জুটিকাকে উদ্ধার করে তাম্রলিপ্ত গভার্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই সে মারা যায়। আরও জানা যায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে কর্ণাটকে গিয়েছিলেন ওই মহিলা।
এদিকে, যুথিকার মৃত্যুতে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে তাঁর পরিবার। তাম্রলিপ্ত গগভার্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে এসে মৃতের ভাই প্রতাপ প্রামাণিক জানান, অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাঁর দিদি। কুশমন্ডি থানায় নিখোঁজের ডায়েরিও করা হয়েছিল। হঠাৎই তমলুক থানা থেকে ফোনে জানানো হয় দুর্ঘটনায় দিদির মৃত্যুর কথা। মৃতার ভাই আরও জানিয়েছেন এই যুবককে আগে থেকে চিনতেন না। নিখোঁজের কয়েকদিন পর দিদি শুধু বাড়ি ফিরবে জানিয়েছিল কিন্তু কোথায় ছিল তা জানায় নি। এদিকে, তমলুক হাসপাতাল থেকে যুথিকার প্রেমিক শাহারুল ওকে নিয়ে যায় তমলুক থানার পুলিশ। পরে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি থানার পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

