Last Updated:
Kali Puja 2026: কাটোয়ার প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ক্ষেপিমা পুজোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। ভক্তদের দান করা পাঁচ কেজি সোনার অলংকার ও কয়েক কেজি রুপোর গয়নায় সেজে ওঠেন দেবী।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: কাটোয়ার ক্ষেপিমা, তিনি শুধু দেবী নন, শহরবাসীর কাছে এক গভীর আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক। প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে আজও উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। কথিত আছে, এক সময় এই স্থানে এক খ্যাপা সাধক বসবাস করতেন। তিনিই এখানে মা কালীর পুজো করতেন। সেই সাধকের নাম থেকেই দেবীর নাম হয় ক্ষেপিমা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুজো কাটোয়া শহরের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দূর-দূরান্তে।
বর্তমানে শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা-সহ ভিন রাজ্য থেকেও অসংখ্য ভক্ত ছুটে আসেন মায়ের দর্শনে। ভক্তদের বিশ্বাস, মায়ের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে তিনি কাউকে নিরাশ করেন না। কাটোয়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই মন্দিরে কালীপুজোর দিন কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। ছোট থেকে বড়, সকলেই মেতে ওঠেন এই পুজোর আনন্দে।
খ্যাপা কালীমাতা পুজো সমিতির সম্পাদক বাপি দাস বলেন, “পুজোর দিনে অগণিত ভক্তের ভির হয় দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্তরা আসেন। নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা থাকে। এবছর ৮ তারিখ অর্থাৎ রবিবার মায়ের পুজো এবং ৯ তারিখ অর্থাৎ সোমবার বিসর্জন।”ক্ষেপিমার পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মায়ের সোনার গয়না। ভক্তদের দান করা প্রায় পাঁচ কেজি সোনার অলংকারে সাজিয়ে তোলা হয় দেবীকে। রয়েছে সোনার নেকলেস, সোনার জিভ-সহ নানা মূল্যবান গয়না। পাশাপাশি পরানো হয় কয়েক কেজি রুপোর অলংকারও। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ব্যাঙ্কের লকার থেকে পুলিশি পাহারায় মায়ের গয়না মন্দিরে নিয়ে আসা হয়।
গয়না পরানোর সময় মন্দিরের গর্ভগৃহে পুলিশকর্মী ও পুজো উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি থাকে না। পুজো উপলক্ষে মন্দির চত্বরেও মোতায়েন থাকেন পুলিশকর্মীরা। এদিকে, আসন্ন কালীপুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোরকদমে প্রস্তুতি। তৈরি হচ্ছে মায়ের প্রতিমা। মন্দিরে প্রবেশের পথে বসানো হয়েছে বড় বড় আলোর তোরণ, সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা চত্বর, টাঙানো হয়েছে ঝাড়বাতি। প্রাচীন ঐতিহ্য, বিপুল স্বর্ণালংকার আর ভক্তদের অগাধ বিশ্বাস, সব মিলিয়ে ফের একবার ক্ষেপিমার দর্শনে মুখিয়ে রয়েছেন কাটোয়াবাসী থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের অগণিত ভক্ত।
