Last Updated:
Success Story: মাত্র তিন মাসেই সাফল্য, সুন্দরবনের ক্রিকেট আ্যকাডেমি থেকে আন্ডার-১৯ ডাক রীতিশার
পাথরপ্রতিমা: সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা পাথরপ্রতিমায় বহু কিশোর-কিশোরীর খেলাধুলার ইচ্ছা থাকলেও ছিল না কোনও স্পোর্টস আ্যকাডেমি। খেলাধূলার জন্য যেতে হত কলকাতায়। তবে মাত্র ৫ মাস আগে পাথরপ্রতিমায় একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি খোলে, সেখান থেকেই কম সময়ে এবার সাফল্য পেল রীতিশা সিং।
প্রত্যন্ত সুন্দরবনের ছেলে-মেয়েদের কাছে একসময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল সোনার পাথরবাটির মত। কিন্তু সেই ধারণাকে বদলে দিয়ে সাফল্যের নতুন ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই আন্ডার-১৯ বেঙ্গল স্কুল ক্রিকেটে খেলার ডাক পেল পাথরপ্রতিমার প্রতিভাবান কিশোরী রীতিশা সিং। আর তাঁর এই সাফল্যে খুশির হাওয়া গোটা এলাকা জুড়ে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাসপাতাল মোড় এলাকায় মাত্র পাঁচ মাস আগেই পথচলা স্পোর্টস আ্যকাডেমির। গ্রামের ছেলে-মেয়েদের ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ দিয়ে আগামী দিনের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ। আ্যকাডেমির দায়িত্বে রয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার স্বদেশ বারিক।।
নিজের জন্মভূমির প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের ছেলে-মেয়েদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে এই ক্রিকেট আ্যকাডেমি গড়ে তোলেন তিনি। একসময় এই উদ্যোগ দেখে অনেকেই মুখ টিপে হেসেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সেই আ্যকাডেমির হাত ধরে এল বড়সড় সাফল্য। ১৪ বছরের রীতিশা সিংয়ের বেঙ্গল স্কুল ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়া যেন সেই স্বপ্নেরই প্রথম বড় স্বীকৃতি।
রীতিশার এই সাফল্য শুধু একজন কিশোরীর ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, বরং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ের কাছে নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। প্রমাণ করে দিল, প্রতিভা কখনও শহর কিংবা গ্রামের সীমানায় আটকে থাকে না। প্রয়োজন শুধু সঠিক প্রশিক্ষণ, সুযোগ এবং এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। সুন্দরবনের মাটিতেও যে বাংলার আগামী দিনের ক্রিকেট তারকা তৈরি হতে পারে, রীতিশার সাফল্য যেন সেই বার্তাই পৌঁছে দিল এবার।
Nawab Mullick
