রাজনাথ সিং বলেন, “প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক কিংবা বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দায়িত্ব পালন, আমাদের বায়ুসেনার যোদ্ধারা প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সবসময় প্রস্তুত। আপনাদের নিষ্ঠাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
সশস্ত্র বাহিনীতে শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, সেনাদের মধ্যে সাহস ও শৃঙ্খলা না থাকলে সেই প্রযুক্তির কোনও মূল্য নেই। তাঁর কথায়, “প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, আমাদের সেনাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সাহসের অভাব থাকলে তা কোনও কাজে আসবে না। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী তাদের শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত। শৃঙ্খলাই একজন সাধারণ সৈনিককে অসাধারণ যোদ্ধায় পরিণত করে।”
পাশাপাশি, ড্রোন এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ করে তোলার উপর জোর দেন রাজনাথ সিং। তিনি জানান, সেনাকর্মীরা বর্তমানে ড্রোন পরিচালনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং যুদ্ধের নতুন কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে হবে। আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমরা এই পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাব।”
দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে ভারতের উদ্যোগের ফলে দেশীয় স্টার্টআপ ও শিল্পসংস্থাগুলি ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা এবং সেনাদের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম তৈরি করতে পারছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই সমস্ত সরঞ্জাম ব্যবহারে ভারতীয় সেনারা যে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন, তা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন সেনাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখারও পরামর্শ দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, সেনাকর্মীদের আচরণ, পোশাক, কথাবার্তা এবং সংযমের উপর নির্ভর করে স্থানীয় মানুষের কাছে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি তৈরি হয়। তাই যে এলাকায় সেনাকর্মীরা মোতায়েন থাকবেন, সেখানকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা তাঁদের দায়িত্ব।
রাজনাথ সিং আরও বলেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক যত মজবুত হবে, শত্রুপক্ষের বিভেদ তৈরির ষড়যন্ত্র ততই দুর্বল হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, “বাগডোগরা এবং আশপাশের এলাকার মানুষের সেনাবাহিনীর প্রতি যথেষ্ট ভালবাসা রয়েছে। সেই ভালবাসা বজায় রাখার দায়িত্বও আপনাদের।” তাঁর সংযোজন, “স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগ যত বাড়বে, শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র ততই দুর্বল হয়ে পড়বে।”
