Last Updated:
শনিবার হঠাৎ করে রাতারাতি নোটিশ টাঙিয়ে বন্ধ করা হলো মহিষাদল রাজ কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া।
কলেজের ঝাড়ুদার পদের জন্য কর্মী নিয়োগের নোটিস৷ সেই বিজ্ঞপ্তি দেখে ঝাড়ুদার পদের জন্যই আবেদন করলেন এমএ পাশ যুবক-যুবতীরাও। এমন কি, পিএইচডি রয়েছে, এমন চাকরিপ্রার্থীরাও ঝাড়ুদার পদের জন্য আবেদন করেছেন৷
তাতেও অবশ্য শেষ রক্ষা হল না৷ চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসে চাকরিপ্রার্থীরা জানতে পারলেন নিয়োগ প্রক্রিয়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ শনিবার এমনই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজ কলেজে৷ যার জেরে আজ চরম বিপাকে পড়েন দুর দুরন্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা! ঘটনাকে ঘিরে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। কলেজের এ ধরনের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত চাকরি প্রার্থীরা। চাপে পড়ে অবশ্য সাফাই দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ।
দিন কয়েক আগেই প্রায় ২০টি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজে চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক ও আশিক্ষ্ক কর্মী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। মোট ২০টি পদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আজ ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়েছিল যোগ্য আবেদনকারীদের।
ইন্টারভিউ দিতে সকালে সময় মতোই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সহ অন্যান্য জেলার থেকেও চাকরিপ্রার্থীরা আজ রাজ কলেজে আসেন। কিন্তু তাঁরা আজ এসে দেখেন কলেজ কর্তৃপক্ষ দেওয়ালে নোটিস সাঁটিয়ে ইন্টারভিউ স্থগিত করেছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই দূর দূরান্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা বিপাকে পড়েন। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিরিক্ত সংখ্যায় আবেদন পত্র জমা পড়ায় ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ হঠাৎ নোটিস জারি করায় বিপাকে পড়া পরীক্ষার্থীরা এই হয়রানির কারণে যারপরনাই বিরক্তি প্রকাশ করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের এই ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সব মহলই।
সূত্রের খবর, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন সামনে আসতে থাকে। মহিষাদল এলাকায় সমাজমাধ্যমেও রাজ কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া জুড়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। শেষমেশ এই বিতর্কের জেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ রাতারাতি নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। যা নিয়ে অবশ্য সাফাই দিয়েছেন কলেজের প্রিন্সিপাল। তাঁর দাবি, গতকাল বিকেল ৫টার পর ইন্টারভিউ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ আবেদনকারীর সংখ্যা অতিরিক্ত হয়ে যাওয়ার কারণেই ভবিষ্যতে যথাযথ পদ্ধতি মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে দাবি করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ গৌতম মাইতি৷

