ত্রিপুরার ভারতের সঙ্গে সংযুক্তির প্রসঙ্গ তুলে দেশভাগের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, তৎকালীন দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত বেশ কিছু অঞ্চল রাজপরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করেই পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
দেশীয় রাজ্যগুলির শাসকদের স্বাক্ষরিত ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন’ বা অন্তর্ভুক্তির চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুবে বলেন, ১৯৪৮ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে ত্রিপুরা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত নোয়াখালি, সিলেট এবং চট্টগ্রাম পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কোন ভিত্তিতে এই অঞ্চলগুলি আপনারা দিয়ে দিয়েছিলেন? র্যাডক্লিফ লাইন, নাকি ম্যাকমোহন লাইনের ভিত্তিতে?”
মহারাজা বীর বিক্রম দেবের মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন নিশিকান্ত দুবে। ১৫ মে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করে বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, রাজ্যের কিছু অংশ পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার আগে মহারানি কাঞ্চনপ্রভাকে বিষয়টি জানানোই হয়নি।
দুবে বলেন, “রাজা এবং গোটা রাজপরিবার ভারতের সঙ্গে ছিলেন। অথচ মহারানি কাঞ্চনপ্রভাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।”
বিজেপি সাংসদের আরও দাবি, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ডের প্রসঙ্গ শুধুমাত্র কাশ্মীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ত্রিপুরার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত কিছু অঞ্চল বর্তমানে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিশিকান্ত দুবের কথায়, “তাহলে শুধু কাশ্মীরই পাকিস্তানের দখলে নেই। আমাদের কিছু ভূখণ্ড এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের উপর ভারতের অধিকার হারানোর সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত সমস্যার যোগসূত্রও তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। তাঁর যুক্তি, এই বন্দরে প্রবেশাধিকার না থাকায় উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে।
দুবে দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতের প্রবেশাধিকার থাকলে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদের আরও ভালো ব্যবহার সম্ভব হত। পাশাপাশি বাণিজ্যের সুযোগও অনেক বাড়ত।
এই অঞ্চলগুলি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে নিশিকান্ত দুবে বলেন, “এবার সময় এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর, নোয়াখালি এবং সিলেট পুনরুদ্ধার করার। আপনারা যে অঞ্চলগুলি পাকিস্তানকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলগুলি ফেরত পেলেই একমাত্র ভারতের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।”
