Last Updated:
Drinking Water: কল আছে কিন্তু জল নেই। কোনও কোনও কলে জল থাকলেও, তাতে আর্সেনিকের আতঙ্ক! তাই বাধ্য হয়ে মাসে ৬০০ টাকা খরচ করে পানীয় জল কিনে খাচ্ছেন কালনার মাজিদা ও তামাঘাটা গ্রামের বাসিন্দারা। বেশ কয়েকবছর ধরে এভাবেই তেষ্টা মেটাচ্ছে ৩০০-৪০০ পরিবার।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: কল আছে, জল নেই! কোনও কলে জল থাকলেও আর্সেনিকের ভয়ে সেই কলের জলও মুখে তুলতে নারাজ গ্রামবাসীরা। ফলে দিনের পর দিন টাকা খরচ করে কিনতে হচ্ছে পানীয় জল। কালনা মহকুমার মাজিদা ও তামাঘাটা গ্রামের এই ছবিই যেন পানীয় জল সরবরাহের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যার কথা বিভিন্ন জায়গায় জানানো হলেও আজও স্থায়ী সমাধান হয়নি। গ্রামবাসীদের দাবি, এলাকায় বসানো হয়েছে পানীয় জলের কল। কোথাও আবার কল থেকে জলও পড়ছে একেবারে না পড়ার মতো। কিন্তু সেই জল আদৌ পানযোগ্য কি না, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর আশঙ্কা।
বিশেষ করে জলে আর্সেনিক রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের। ফলে কলের জল পান করতে চাইছেন না অনেকেই। সর্বানি দে জানান, জলের গুণমান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় থেকেই যাচ্ছে। পরীক্ষার রিপোর্ট বা জল নিরাপদ কী না, তা জানানো হলে এই আতঙ্ক অনেকটাই দূর হতে পারে বলেও তাঁর দাবি। অন্যদিকে, যে পানীয় জল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছনোর কথা, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বলে অভিযোগ। তামাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা ভরত বিশ্বাসের দাবি, একসময় পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছত। প্রথম দিকে কয়েকদিন জল সরবরাহ হলেও পরে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে এই পরিষেবা বন্ধ রয়েছে বলেই দাবি তাঁর। ফলে পানীয় জলের জন্য এখন ভরসা কিনে আনা জল। একসময় অন্য গ্রাম থেকে ভ্যানে করে জল বিক্রি করতে আসতেন বিক্রেতারা। বর্তমানে তামাঘাটা গ্রামেই কয়েকজন জল বিক্রির ব্যবস্থা শুরু করেছেন। ২০ লিটার জল কিনতে খরচ হচ্ছে ১০ টাকা। প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে একটি পরিবারের মাসে প্রায় ৬০০ টাকা বা তারও বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, শুধু দু-একটি পরিবার নয়, এলাকার প্রায় ৩০০-৪০০ জন মানুষ নিয়মিত কিনে জল পান করছেন। চারটি গাড়িতে জল সরবরাহ করেও চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
জল বিক্রেতা মানু অবতার জানান, এলাকার মানুষের পানীয় জলের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই তিনি জল সরবরাহ করছেন। সরকারি জল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি। সবচেয়ে মানবিক বিষয়, এই পরিস্থিতিতে গ্রামের এক ব্যক্তি নিজেই পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, সরকারি জল সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং মানুষ কলের জল নিয়ে আতঙ্কে থাকায় তিনি লিটারপ্রতি ৫০ পয়সা হিসাবে জল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর কথায়, লাভের কথা না ভেবে গ্রামের মানুষ যাতে অন্তত পানীয় জল পান করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ।
