Last Updated:
Durga Puja Tradition: জমিদার আমলের ভেদাভেদ ভুলে সকলকে এক ছাতার তলায় আনার সেই অনন্য প্রথা আজও অমলিন! পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার বীজনগর গ্রামের বক্সী বাড়ির দুর্গোৎসবে মহানবমীর দিন কাদা খেলার ঐতিহ্যময় আচার পালনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হল মাটির টান ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উৎসব।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব আর মানুষের মিলন ক্ষেত্র। তবে সেই উৎসবের মধ্যেই যদি মিশে থাকে ইতিহাসের ছোঁয়া, সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা এবং মাটির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক, তাহলে তা হয়ে ওঠে আরও বিশেষ। কাটোয়া মহকুমার বীজনগর গ্রামের বক্সী বাড়ির দুর্গাপুজোকে ঘিরে নবমীতে এমনই এক অভিনব প্রথা হল কাদামাখা খেলা। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে বক্সী বাড়ির সদস্যরা। বক্সী বাড়ির দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জমিদারি আমলের ইতিহাস। প্রদীপ কুমার বক্সীর কথায়, একসময় নবমীতে এই পুজোকে কেন্দ্র করেই গ্রামের মানুষের মধ্যে এমন আনন্দ উৎসবের আয়োজন হত। জমিদার পরিবারের সদস্যরা সেদিন নিজেদের গণ্ডি ছেড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাঠে নেমে কাদামাখা খেলায় মেতে উঠতেন।
শাসক ও শাসিতের মধ্যে যে সামাজিক দূরত্ব ছিল, তা মুছে ফেলে সকলকে একসঙ্গে আনন্দে মাতিয়ে তোলাই ছিল এই প্রথার অন্যতম উদ্দেশ্য। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সমাজ, বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রাও। একসময় কাদামাখা খেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার বাজনদাররা ঢাক-ঢোল-সহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বক্সী বাড়ির পুজোয় যোগ দিতেন। প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের দল বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গোটা গ্রাম পরিক্রমা করত। সেই আয়োজন ঘিরে তৈরি হত এক অন্যরকম উৎসবের পরিবেশ।
তবে এখন আর আগের মতো বড় দল নিয়ে গ্রাম পরিক্রমার রীতি দেখা যায় না। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিবারের সদস্য এবং গ্রামে আসা ছেলেমেয়েদের একাংশ এই উৎসবে অংশ নেন। প্রদীপ কুমার বক্সীর মতে, এই উৎসবের সঙ্গে মাটির টানও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। শহরের বহুতলে থাকা নতুন প্রজন্ম যখন গ্রামে ফিরে আসে, তখন কাদামাখা খেলার মধ্য দিয়ে তারা প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পায়। মাটির স্পর্শ অনুভব করে, পরিচিত হয় গ্রামের পরিবেশের সঙ্গে। ব্যস্ত জীবনের বাইরে এই একটি দিন যেন সবাইকে একসঙ্গে আনন্দ করার অবকাশ দেয়।

