Last Updated:
Hanta Kali Temple: দেশ স্বাধীনতার বছর ১৯৪৭-এ নবরূপে প্রতিষ্ঠা করা হয় মন্দির। মালদা শহরের জাগ্রত ও ভক্তদের ভরসার জায়গা হ্যান্টা কালী মন্দির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখেও শোনা গিয়েছে নাম। মন্দিরটির ইতিহাস, পুজোর নিয়ম ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
মালদা, জিএম মোমিন: দেশে তখন ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে। চারদিকে স্বাধীনতার আবহ। ঠিক সেই সময়, ১৯৪৭ সালে মালদা শহরের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় এক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দির। সুন্দরবন থেকে আগত এক সাধুবাবার হাত ধরেই সূচনা হয় মা হ্যান্টা কালীর পুজো। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় ৭৯ বছর। সময় বদলেছে, বদলেছে শহরের চেহারা, কিন্তু বদলায়নি মায়ের পুজোর ঐতিহ্য ও পরম্পরা। আজও ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিতা হয়ে আসছেন মা হ্যান্টা কালী।
মালদা শহরের মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন ট্র্যাফিক মোড়ে অবস্থিত এই মন্দির। মায়ের নামেই এলাকার নামকরণ হয়েছে হ্যান্টা কালী মোড়। সারা বছরই মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে। বিশেষ করে প্রতি অমাবস্যায় পুজো দিতে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত। তবে এই মন্দিরের বাৎসরিক কালীপুজো কার্তিক অমাবস্যায় নয়, অনুষ্ঠিত হয় অগ্রহায়ণ মাসের অমাবস্যায়। ওই দিন বিশেষ পুজো ও ভোগ নিবেদনের আয়োজন করা হয়।
মন্দিরের সেবায়েত অচিন্ত্য ভট্টাচার্য জানান, সুন্দরবন থেকে আগত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নামে এক সাধুবাবা এই পুজোর প্রচলন করেন। মা অত্যন্ত জাগ্রত বলেই ভক্তদের বিশ্বাস। বর্তমানে চারজন পুরোহিত মন্দিরের পুজো ও দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মন্দির খোলা থাকে। জেলা, রাজ্য তথা দেশ-বিদেশ থেকেও বহু ভক্ত মায়ের দর্শনে আসেন।
দর্শনার্থী মৃন্ময়ী সেনগুপ্তা জানান, ছোটবেলা থেকেই স্কুলে যাওয়ার পথে মন্দিরে প্রণাম করে যেতেন তিনি। আজও প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মাকে প্রণাম করেন। তাঁর কথায়, মায়ের আশীর্বাদেই তাঁরা ভাল রয়েছেন। দিল্লি ও জার্মানি থেকেও তাঁদের আত্মীয়রা পুজো দিতে আসেন। মালদা টাউন স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির। মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন হ্যান্টা কালী মোড়ে নামলেই মিলবে মায়ের দর্শন। জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের যাতায়াতও বেশ সুবিধাজনক। প্রায় আট দশক ধরে ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ভক্তির মেলবন্ধনে আজও স্বমহিমায় বিরাজ করছেন মা হ্যান্টা কালী।
