Last Updated:
Human Interest Story: চকচকে রেস্তরাঁর ফিতে কাটতে ডাক পড়ল না কোনও রাজনৈতিক নেতা বা সেলিব্রিটির! পরিবর্তে গুসকরা শহরের একদল ভবঘুরে ও অসহায় মানুষকে ডেকে এনে আদর-আপ্যায়নে এসি রেস্তরাঁয় বসিয়ে ভুরিভোজ করিয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটল এক নতুন ঠিকানার।
গুসকরা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: কোনও নেতা, মন্ত্রী কিংবা সেলিব্রিটি নন, ঝাঁ চকচকে নতুন রেস্তরাঁর উদ্বোধন করলেন একদল ভবঘুরে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ! যে মানুষগুলোর দু’বেলা পেট ভরে খাবার জোটানোই কঠিন, তাঁরাই এদিন এসি রেস্তরাঁর চেয়ার-টেবিলে বসে খাবার খেলেন পেট ভরে। গুসকরা শহরে নতুন রেস্তরাঁর উদ্বোধনে এমনই এক মানবিক উদ্যোগ নিলেন রেস্তরাঁর মালকিন মৌমিতা চট্টোপাধ্যায় নিয়োগী।
কিন্তু হঠাৎ এমন ভাবনা কেন? এর পিছনে রয়েছে এক বিশেষ অনুভূতি। রেস্তরাঁর মালকিন মৌমিতা চট্টোপাধ্যায় নিয়োগী বলেন, “আমি মনে করি যেকোনও জায়গায় উন্নতির জন্য বড়দের আশীর্বাদের প্রয়োজন রয়েছে। একদিন যদি আমি তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি তাহলে মনে হয় সারা বছর আমার মুখে হাসি থাকবে।” উদ্বোধনের দিন অতিথিদের জন্য ছিল এলাহি খাবারের আয়োজন। ভাত, শাকভাজা, মিক্সড ভেজ, ডাল, মাছের কালিয়া, চাটনি, পাপড়, পায়েস কোনও কিছুতেই ছিল না খামতি। তবে এই মানুষগুলোর কাছে দিনটি শুধু পেট ভরে খাওয়ার ছিল না, ছিল সম্মানের সঙ্গে রেস্তরাঁয় বসে খাওয়ার এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
আমন্ত্রিতদের মধ্যে নিমাই দাস বৈরাগ্য জানান, এমন সুন্দর জায়গায় বসে খাওয়ার সুযোগ তাঁর আগে হয়নি। এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেন গুসকরার বাসিন্দা পাঞ্জাব শেখ। প্রতি মঙ্গলবার তিনি ভবঘুরে ও অসহায় মানুষদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেই এই মানুষগুলোকে আমন্ত্রণ জানান মৌমিতা। পাঞ্জাব শেখের কথায়, যাঁদের কোনও দিন একবেলা খাবার জোটে, আবার কোনও দিন জোটে না, তাঁদের রেস্তরাঁয় বসিয়ে এমনভাবে খাওয়ানোর উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
নতুন রেস্তরাঁর উদ্বোধনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মৌমিতার ব্যক্তিগত আবেগও। এ বছর তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই ছোট্ট পুজোর মাধ্যমে শুরু হয় রেস্তরাঁর পথচলা। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে খোলা থাকবে এই রেস্তরাঁ। থাকছে থালি, বিকেলের স্ন্যাকস ও ডিনারের ব্যবস্থা। তবে প্রথম দিনেই এই উদ্যোগ বুঝিয়ে দিল, রেস্তরাঁর দরজা শুধু খাবারের জন্য নয়, মানবিকতার টানেও খুলে দেওয়া যায়। আর মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দই হয়ে উঠতে পারে নতুন পথচলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
