Last Updated:
Political Victim Family Scheme: ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত বলরাম মাঝির পরিবার নতুন সরকারের কাছে আর্থিক স্বস্তির পাশাপাশি সরকারি চাকরি এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির আর্জি জানিয়েছে। পাঁচ বছর ধরে অভাব ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছে এই পরিবার।
কেতুগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান: একটা মৃত্যু শুধু একজন মানুষকেই কেড়ে নেয়নি, ওলটপালট করে দিয়েছিল গোটা পরিবারের জীবন। যে ছেলের রোজগারে সংসারের চাকা ঘুরত, তার চলে যাওয়ার পর থেকেই অভাব আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে পরিবারকে। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত আজও শুকোয়নি। এবার ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার উদ্যোগে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের শ্রীপুরের বলরাম মাঝির পরিবার।
পরিবারের আশা, এই সুযোগে কর্মসংস্থান হতে পারে বলরামের দিদির। দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্টের মধ্যে এই খবর যেন কিছুটা আশার আলো হয়ে এসেছে তাঁদের কাছে। মৃত বলরামের মা টুম্পা মাঝি বলেন, “চাকরি তো প্রয়োজন না হলে আমাদের সংসার চালানো খুব কষ্টকর। কিন্তু চাকরি পেলেও আমি চাই দোষীদের যেন কঠিন থেকে কঠিনতম সাজা হয়। যারা এই কাজ করেছে তাদের যেন শাস্তি হয়।”
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিনই নেমে এসেছিল অন্ধকার। অভিযোগ, বিজেপি করার কারণে এবং তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার আক্রোশে শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা ১৮ বছরের বলরাম মাঝির উপর হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। পরিবারের সামনেই চলে মারধর। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন বাবা মৃত্যুঞ্জয় মাঝিও।
অভিযোগ, বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে মাঠে নিয়ে গিয়ে টিউবওয়েলের লোহার হাতল দিয়ে বলরামের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বর্ধমান হাসপাতালে মৃত্যু হয় তরতাজা যুবকের। ঘটনার পর কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পান অভিযুক্তরা।
পরিবারের অভিযোগ, এরপরেও তাঁদের নানা সময়ে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। বলরাম মাঝির দিদি রাখি বাগদি বলেন, “ভাই একমাত্র সংসারে উপার্জন করত। কিন্তু এখন তো আমাকেই সব দেখতে হবে, তাই চাকরি খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমি চাই দোষীদের যেন ফাঁসি হয়।”
বলরামের মৃত্যুর পর শুধু পরিবারের একজন সদস্যকে হারানোর যন্ত্রণা নয়, ভেঙে পড়েছে সংসারের আর্থিক ভিতও। স্থানীয় দোকানে কাজ করে উপার্জন করত বলরাম। অন্যদিকে, ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হওয়া বাবা মৃত্যুঞ্জয় মাঝিও এখনও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। ফলে সংসারের দায়িত্ব সামলানো কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। পাঁচ বছর ধরে চোখের জল আর অভাবকে সঙ্গী করেই দিন কাটছে পরিবারের।
নতুন সরকারের চাকরির উদ্যোগে যদি পরিবারের একজনের কর্মসংস্থান হয়, তাহলে হয়ত কিছুটা হলেও ফিরবে স্বস্তি। তবে বলরামের পরিবারের কাছে লড়াই শুধু পেটের তাগিদে নয়, ন্যায়বিচার পাওয়ারও। তাঁদের দাবি, যে নৃশংসতায় পরিবারের তরতাজা ছেলেকে হারাতে হয়েছে, সেই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি চাকরির আশ্বাসে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখলেও বলরামের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আজও তাঁদের একটাই প্রশ্ন, প্রিয়জনকে হারানোর বিচার কি মিলবে?
বনোয়ারীলাল চৌধুরী
