Last Updated:
পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার সভা থেকে তৃণমূলের পাশাপাশি সিপিআইএম-কেও হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷
দু দিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবার সেই পুলিশ আধিকারিককেই বিশেষ দায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ এ দিন পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার সভা থেকে জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলাতানাকে শুভেন্দুর নির্দেশ, সিপিআইএম নেতা তপন ঘোষকে খুঁজে বের করতে হবে৷ পাশাপাশি, বাম আমলের সমস্ত পুরনো মামলা ফের রিওপেন করার জন্যও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
গড়বেতার সভা থেকে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে ২০০৭-এ নন্দীগ্রামে, গড়বেতার যে সিপিআইএম অফিস ছিল, সেখান থেকে যারা যারা বন্দুক নিয়ে নন্দীগ্রামে রক্তাক্ত সূর্যোদয় ঘটিয়েছিল, তাদের কেস আমি রিওপেন করব৷ একটাকেও ছাড়া হবে না৷ তপন- সুকুর একসময় বলেছিল শুভেন্দু অধিকারী এলে পা ভাঙব৷ আমি তিন দিনের মধ্যে চন্দ্রকোনা রোডে এসে সুশান্ত ঘোষের বুকের উপরে দাঁড়িয়ে সভা করেছিলাম৷’
এর পরই সরাসরি জেলা পুলিশ সুপারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূলের নামও নেই নিশানাও নেই, মুছে গেছে৷ সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে কঙ্কাল কাণ্ডের নায়করা৷ তপন কোথায় এখন? আছে না পালিয়েছে? এসপি ম্যাডাম, খুঁজে আনতে হবে আপনাকে৷ আমি ওকে জেলে দেখতে চাই৷’
প্রসঙ্গত, বাম আমলে গড়বেতা, চন্দ্রকোনার দুই বিতর্কিত চরিত্র তপন ঘোষ এবং সুকুর আলি৷ দু জনের নামই ২০০১ সালের ছোট আঙারিয়া কাণ্ড, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম মামলায় জড়িয়েছিল৷ যদিও ২০০৯ সালে ছোট আঙারিয়া কাণ্ডে বেকসুর খালাস পান তপন- সুকুর৷ এ বছর বিধানসভা নির্বাচনে গড়বেতা থেকে সিপিআইএম-এর প্রার্থীও হয়েছিলেন তপন ঘোষ৷
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে গত বৃহস্পতিবার নাম করে হুমকি দেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পুলিশকে হুমকি দিতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি, তাঁর কোথায় কোন আইনজীবীর সঙ্গে কী সম্পর্ক, তা সর্বজন বিদিত৷ রাতের অন্ধকারে মিটিং করে কীভাবে ফাঁসানো যায়, আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করা৷ ভোটের ফলের আগের দিন আমাকে মেসেজ করে বলেছিলেন তৃণমূল হই হই করে জিতবে৷ আর বিজেপি চুরি করে জেতার পরই ডাইভ মেরে যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীদের যাঁরা মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়েছেন, এররকম একজন পুলিশ অফিসারকেও আমাদের সরকার আগামী দিনে রেয়াত করবে না৷’
যদিও তপন ঘোষকে খুঁজে আনা অথবা বাম আমলের মামলা পুনরায় খোলার যে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তাকে আমল দিতে নারাজ সিপিআইএম নেতৃত্ব৷ সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘তপন- সুকুকে গ্রেফতার করবেন? করুন, দম থাকলে করুন। আমরাও বুঝে নেব৷’

