Last Updated:
Suvendu on Buddhadeb: রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির নিরাপত্তাও বৃদ্ধি করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্যে পালাবদলের পরে বাড়িয়ে দেওয়া হয়ে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা।
কলকাতা: এক সময় এই শুভেন্দু অধিকারীই ছিলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ৷ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুভেন্দু বিধায়ক৷ এখন সময়ের চাকা ঘুরেছে৷ বর্তমানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন শুভেন্দু৷ গত বুধবার সিঙ্গুরের নতুন শিল্প সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করার সময় তাঁর মুখেই শোনা গিয়েছে বাম আমলের শিল্পনীতির সমালোচনা৷ তারপরে জ্যোতি বসুর না বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বঙ্গ শিল্পনীতির নেপথ্যে কে ছিলেন, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বিস্তর৷ এর মাঝে অবশ্য বুদ্ধদেব প্রসঙ্গে খানিকটা নরম সুরেই কথা বলতে শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে৷
এদিন সেই বুদ্ধবাবুর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘‘আমি প্রয়াত মানুষজনকে নিয়ে কিছু বলব না৷ আমি সামগ্রিক ভাবে বলব, সিপিএমের শিল্পনীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে শিল্প গেছে৷ ব্যক্তি জ্যোতি বাবু বা প্রয়াত বুদ্ধবাবুর কোনও বিষয় নয়৷’’
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গে কথা বলার সসময় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে বুদ্ধবাবুর ভীষণ ভাল টকিং টার্ম ছিল, খুব ভাল গুড পার্সোনাল রিলেশন ছিল৷ আমি ওনার আমলেই প্রথম এমএলএ হয়েছিলাম৷’’
কার্যত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিষয়ে সুর নরম করে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ওনার ব্যক্তিগত সদিচ্ছা ছিল৷ কিন্তু ওনার পদ্ধতি, প্রক্রিয়াতে অনেক ত্রুটি ছিল৷ এবং উনি যা বলতেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এসে তা হারিয়ে যেত৷’’
এই প্রথম নয়৷ এর আগেও গত ২৩ সেপ্টেম্বর মিলন মেলা প্রাঙ্গণে জমি বিতরণের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রশংসা করেথছিলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিন, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর দল খুব নেতিবাচক ছিল শিল্পায়নের বিষয়ে। আর মমতার নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই সিঙ্গুর থেকে টাটারা চলে গিয়েছিলেন।”
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির নিরাপত্তাও বৃদ্ধি করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্যে পালাবদলের পরে বাড়িয়ে দেওয়া হয়ে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা।
মীরা ভট্টাচার্যের গলাতেও শোনা গিয়েছিল শুভেন্দুর প্রশংসা৷ বলেছিলেন, ‘‘যখন বিধানসভায় ওঁর (পড়ুন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর) বডিটা নিয়ে যাওয়া হল, তখন উনি আমাকে এসে বলেছিলেন, যদি কখনও কিছু অসুবিধা হয়, প্রয়োজন হয়, আমাকে অবশ্যই জানাবেন। সেই সময় ওই কথাটা অবশ্যই ভাল লেগেছিল।’’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘পাট শিল্প তুলে দিয়েছে। চা শিল্প বন্ধ করেছে। বিধানচন্দ্র রায় যা যা করে গিয়েছিল সব জায়গায় তালা লাগিয়ে দিয়েছে৷ উনি তালিকা চাইলে আমি বিমান বাবুর কাছে গিয়ে দিয়ে আসব৷ উনি বয়ঃজ্যেষ্ঠ আমি নবান্নে ডাকব না। গিয়ে দিয়ে আসব৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য ডেকে ফিসফ্রাই খাইয়ে ছিল৷ এখন তো বেবি আর আন্টি এক হয়ে গিয়েছে৷ ওনাদের (বাম জমানায়) ৫৬ হাজার কারখানা বন্ধ হয়েছে, যা বিধানচন্দ্র রায় বা স্বাধীনতার আগে থেকে ছিল৷’’

