Last Updated:
পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, দফতরে মোট ১৩ হাজার ২০০টি শূন্যপদ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় সাত হাজার পদে নিয়োগের অনুমোদন মিলেছে। গত ১০-১২ বছর ধরে নিয়োগ হয়নি বলেও দাবি তাঁর। আগে জেলাভিত্তিক নিয়োগ হলেও এবার কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ১২৫ দিনের কর্মসূচির অধীনে রাজ্যে প্রতিদিন ২২ লক্ষ মানুষকে কাজ দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। পাশাপাশি পঞ্চায়েত দফতরে ৭ হাজার ১৯০ জনকে নিয়োগের উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই নিয়োগ করা হবে। বুধবার সল্টলেকের পঞ্চায়েত দফতরে বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১২৫ দিনের কাজ বা ভিবি-জি রামজি কর্মসূচির অধীনে কেন্দ্রের বরাদ্দ অনুযায়ী রাজ্যে ২২ কোটি কর্মদিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই প্রকল্পে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ হবে। ইতিমধ্যেই ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন সরকারের উদ্যোগে প্রতিদিন ২২ লক্ষ মানুষ এই কর্মসূচির অধীনে কাজ করতে পারবেন।
পঞ্চায়েত দফতরে নিয়োগ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭১৯০ জনকে নিয়োগ করা হবে। নিয়োগ বিধি পরিবর্তনের জন্য দীপাবলির পর বিধানসভার অধিবেশন ডাকা হবে। পাশাপাশি কাজের গতি বাড়াতে আরও এক হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদনের কথা জানান তিনি।
জব কার্ড নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, যাচাইয়ের পর ৩১ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে নতুন করে ১০ লক্ষ জব কার্ড তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা আনতে জিও ম্যাপিংয়ের উপর জোর দেওয়ার কথা জানান পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে ৫৪ লক্ষ উপভোক্তার নাম থাকলেও সমীক্ষার পর সেই সংখ্যা কমে ৪৭ লক্ষ হয়েছে। আগামী দুই অর্থবর্ষের মধ্যে আবাস যোজনার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য।
পাশাপাশি নিউটাউনে পঞ্চায়েত দফতরের নতুন ভবন তৈরির জন্য পাঁচ একর জমি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে এসে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়েও কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
গত সপ্তাহে নবান্নের বৈঠকে ১২৫ দিনের কাজের ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সরাসরি পঞ্চায়েত দফতরে পর্যালোচনা বৈঠক করে কর্মসংস্থান, নিয়োগ এবং গ্রামীণ উন্নয়নের কাজে গতি বাড়ানোর বার্তা দিলেন তিনি।

