Last Updated:
আতস কাচে চোখ রাখলেই দেখা মিলবে মা কালীর! পেনসিলের শিষ থেকে ওষুধের শিশি, শিল্পযোগে মায়ের আরাধনায় মাতোয়ারা বাঁকুড়ার শিল্পী
বাঁকুড়া: পেনসিলের শিষের উপর তৈরি মা কালীর মূর্তি! উচ্চতা মাত্র তিন সেন্টিমিটার। শুধু পেনসিলের শিষই নয়, ব্লেডের উপর মা কালী, ধানের শিষের উপরেও ফুটে উঠেছে দেবীর অবয়ব। আকার এতটাই ছোট যে খালি চোখে স্পষ্টভাবে দেখা প্রায় অসম্ভব। মূর্তিগুলি ভালো করে দেখতে হলে সাহায্য নিতে হবে আতস কাচের। আবার হাতের তালুর মধ্যেই ধরে ফেলা যাবে শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা কালীর যুগল মূর্তি। শুধু তাই নয়, হোমিওপ্যাথি ওষুধের ছোট্ট শিশি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বোতলের ভিতরেও জায়গা করে নিয়েছেন মা কালী। প্রথম দেখায় অবাক হতে হয়, কীভাবে এত ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব দেবীর অবয়ব!
এ যেন শিল্পের এক অন্য জগৎ। মাইক্রো আর্ট এবং বটল আর্টের অপূর্ব মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে মা কালীর এক অভিনব সংগ্রহশালা। তিল তিল করে নিজের হাতে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতির কালীমূর্তি তৈরি করেছেন বাঁকুড়ার পাঠকপাড়ার আদি বাসিন্দা এবং বর্তমানে জুনবেদিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে নানা ধরনের উপকরণে তৈরি দেবীর মূর্তি। কখনও পেনসিলের শিষ, কখনও ধানের শিষ, আবার কখনও ব্লেডের মতো অত্যন্ত সীমিত পরিসরকে ক্যানভাস বানিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী। বোতলের ভিতরে মূর্তি তৈরির ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কাজের মধ্যে প্রতিটি মূর্তির অবয়ব, গঠন এবং সূক্ষ্ম কারুকার্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
পেশায় ও অভিজ্ঞতায় চিত্রশিল্পী ইন্দ্রনীলের কাছে এই কাজ শুধুমাত্র শিল্পচর্চা নয়, বরং এক ধরনের সাধনা। দিনের পর দিন ধৈর্য, একাগ্রতা এবং নিখুঁত হাতের কাজের মাধ্যমে তৈরি হয় প্রতিটি মূর্তি। সামান্য অসতর্কতা কিংবা হাতের সামান্য কম্পনেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম। তাই প্রতিটি কাজের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ অনুশীলন এবং অসীম ধৈর্য। সাধারণ মানুষের কাছে যে পেনসিলের শিষ কিংবা ওষুধের শিশি নিতান্তই দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী, শিল্পীর হাতে সেগুলিই হয়ে উঠেছে দেবী আরাধনার অন্যতম মাধ্যম। তাঁর সংগ্রহশালায় প্রবেশ করলে মনে হবে, ক্ষুদ্রতার মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে এক বিশাল শিল্পজগৎ।
সাধারণত পুজো-অর্চনা কিংবা মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবীর আরাধনা করতে দেখা যায় ভক্তদের। কিন্তু ইন্দ্রনীলের আরাধনার পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। তুলির আঁচড়, সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি এবং শিল্পসত্তাকে সঙ্গী করেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন মায়ের কাছে পৌঁছনোর এক অন্য রাস্তা। তাঁর এই সাধনার নাম ‘শিল্পযোগ’। যেখানে শিল্পই হয়ে উঠেছে ভক্তির মাধ্যম, আর প্রতিটি ক্ষুদ্র মূর্তি যেন মায়ের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ। বাঁকুড়ার এই শিল্পীর হাত ধরে মাইক্রো আর্ট শুধু শিল্পের বিস্ময় হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে এক অভিনব মাতৃ আরাধনা।
