Headlines

Kali Puja 2026: চারপাশে নেই কোনও বসতি, ঘন জঙ্গলের মাঝে অন্ধকারে পুজো হয় মা কালীর | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

এর আগে একাধিকবার চাঁদা তুলে মন্দির তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তারপর আর সে উদ্যোগ কেউ নেয়নি।

আউশগ্রামের জঙ্গলে কালী পুজো৷
আউশগ্রামের জঙ্গলে কালী পুজো৷

চারদিকে শাল সেগুনের ঘন জঙ্গল। আজও কোনও জনবসতি নেই। গহীন জঙ্গলের মাঝে শুধু একটি বেদি। সেই বেদীতে দীপান্বিতা অমাবস্যায় হয় কালীপুজো। আলোর উৎসব দীপাবলি, কিন্তু এখানে পুজো হয় আলো নিভিয়ে, ঘোর অন্ধকারে। ঘন জঙ্গলের মাঝে কারা প্রতিষ্ঠা করেছিল এই বেদি?

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের আদুরিয়ায় শাল পিয়ালের জঙ্গলে ঘেরা গ্রাম শালকো। এই গ্রামের কালীর নাম শালকো কালী। কার্তিক মাসের ঘোর অমাবস্যায় টিনের ছাউনি দেওয়া বেদিতেই নিঃশব্দেই দেবীর পুজো হয়। পুজো করে যান আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা। লোককথা, এই বেদির নীচে আছে পঞ্চমুণ্ডির আসন। সেখানেই পুজো হয় মায়ের। বিকেল থেকে শুরু হয় আয়োজন। সাফসুতরো করা হয় চারপাশ। গাছ থেকে সবুজ শালপাতা পেড়ে বিচুলিতে বেঁধে টাঙানো হয় চারপাশে। সেটাই মণ্ডপ। রাতের আঁধার কাটার আগেই পুজো সেড়ে যে যার গ্রামে ফিরে যান।

এক সময় এই গ্রামে অন্তত দুশো পরিবারের বাস ছিল। তারাই বেদির উপরে মাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সে ব্রিটিশ আমলের কথা। বাংলায় তখন কলেরার মহামারী লেগেই থাকত। গাঁ উজাড় করে মারা যেত মানুষ। মহামারীর হাত থেকে রেহাই মেলেনি শালকো গ্রামও। এই গ্রামেও তা ভয়াবহ আকার নেয়। প্রাণ ভয়ৈ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান বাসিন্দারা। একজনও থাকেননি।তাঁরা শালকো গ্রাম থেকে উঠে আদুরিয়া, জালিকাঁদর, গোয়ালআড়া প্রভৃতি গ্রামে আশ্রয় নেন। তারপর আর কেউ ফিরে আসেননি। ধীরে ধীরে সময়ের গর্ভে তলিয়ে যায় ছবির মতো সাজানো গ্রাম। ঘরদোর কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে নেই কোনও বসতি। এখন শুধুই শালবন। অতীতের জনপদের সাক্ষী হয়ে রয়ে গিয়েছে মায়ের এই বেদি। নির্জন জঙ্গলের মধ্যে এখানে একাই বিরাজ করেন মা কালী।

তিনি পুজো পান দীপান্বিতা অমাবস্যায়। আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা যাঁদের বহু বছর আগে এই গ্রামের সঙ্গে যোগ ছিল তাঁরা এসে পুজোর আয়োজন করেন। এখন দূর দূরান্ত থেকে পুজো দেখতে আসেন অনেকেই। তাঁদের বিশ্বাস, মা এখানে উন্মুক্ত, আলো শব্দহীন পরিবেশে থাকাই পছন্দ করেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *