Last Updated:
এখনও প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই কালীমন্দিরে পুজো হয় বলে জানান সেবাইতরা। তবে জাঁকজমক এখন আর আগের মতো নেই।
শেষ ইচ্ছে হিসেবে চোখ বুজে হাত জোড় করে মাকে স্মরণ করলেন রাজকুমারী বিদ্যা ও তাঁর প্রেমিক সুন্দর। হঠাৎই চারদিকে নেমে এলো আঁধার। শুরু হল তুমুল ঝড়। জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন কাপালিক। বিদ্যা আর সুন্দর প্রেমিক -প্রেমিকা যুগল মন্দির থেকে উধাও হয়ে গেলেন। রাজার আদেশে বন্ধ হল নরবলি। এমন গল্প জড়িয়ে আছে কোন মন্দিরের সঙ্গে?
বর্ধমানের বিদ্যাসুন্দর কালী বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক মিষ্টি প্রেমের গল্প। তার সঙ্গে রয়েছে হাড় হিম করা অলৌকিক ঘটনাও। তার জেরে এখানে বন্ধ হয়ে যায় নরবলি। কি সেই কাহিনি?
তখন বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদের আমল। বর্ধমানের বেশিরভাগ এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা। বিশেষ করে দামোদর তীরবর্তী তেজগঞ্জ এলাকায় ছিল আরও গভীর জঙ্গল। সেখানে ছিল প্রাচীন কালী মন্দির। ওই মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন রাজা। এই ঘন জঙ্গলে মা কালীর সামনে নরবলি দেওয়া হতো। যারা জঘন্য অন্যায় অত্যাচার করত তাদের এই মন্দিরে দেবীর সামনে বলি দেওয়া হত। তাই সেই সময় এই কালী দক্ষিণ শ্মশানকালী নামেও পরিচিত ছিল। দিনের বেলাতেও কেউ ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করার খুব একটা সাহস করতেন না ।
সেই সময় ঘটল এক প্রেমের ঘটনা। এই মন্দিরের পূজারি ছিলেন সুন্দর নামে এক যুবক। রাজবাড়ি থেকে এই মন্দিরে পুজোর ফুল দিতে আসতেন মালিনী মাসি। একদিন মালিনী মাসি মন্দিরে ফুলের মালা নিয়ে এসেছেন। সেই মালা দেখে পূজারি সুন্দর জিজ্ঞাসা করেন, ‘এত সুন্দর ফুলের মালা কে গেঁথেছে ? যে মালা গেঁথেছে সেও নিশ্চয়ই এমন সুন্দর! তাঁকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।’
মালিনী মাসি তাঁকে বলেন, রাজকুমারী বিদ্যা মালা গেঁথেছে। কিন্তু তাঁকে দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু মালিনী মাসির কথায় দমে যায়নি সুন্দর। সুড়ঙ্গ পথ খুঁজে বের করে পূজারি সুন্দর পৌঁছে যায় রাজকুমারী বিদ্যার কাছে। সুন্দরের রূপে মুগ্ধ হয় বিদ্যাও।
দিনে দিনে বিদ্যার সঙ্গে সুন্দরের প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে বিদ্যা ও সুন্দর একে-অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যেতেন । একদিন চরের মাধ্যমে তেজচাঁদ বিদ্যা ও সুন্দরের এই প্রণয়ের বিষয়টি জেনে ফেলেন। খবর কানে যেতেই রাজা প্রচণ্ড রেগে যান । তিনি বিদ্যা এবং সুন্দরকে কালীর সামনে বলি দেওয়ার আদেশ দেন ৷ রাজার হুকুম মতো তাঁদেরকে বলি দিতে নিয়ে যাওয়া হয় কালী মন্দিরে।
হাঁড়িকাঠে বিদ্যা ও সুন্দর। চোখ বুজে তাঁরা মা কালীকে স্মরণ করছেন। এরপর কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। চারদিকে আঁধার নেমে আসে। শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। কাপালিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বিদ্যা আর সুন্দর প্রেমিক -প্রেমিকা যুগল মন্দির থেকে উধাও হয়ে যান। তাঁদের আর কোনও দিন কোনও খোঁজ মেলেনি। তারপর থেকেই এই মন্দিরে রাজার আদেশে নরবলি বন্ধ হয়ে যায়।
দেবী এখানে পাষাণ মূর্তি। নিত্যদিন পুজো হয়। সন্ধ্যা আরতি হয়। আগে রাজবাড়ি থেকে পুজো আসত। এখন তা বন্ধ।

