Last Updated:
প্রথমবার NEET পরীক্ষায় বসেই সাফল্য পেল মুর্শিদাবাদের রানীনগরের আবু সুফিয়ান। তৃতীয় রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়ে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সে। ছেলের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন তার বাবা।
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: অবশেষে হল স্বপ্নপূরণ। সংখ্যালঘু পরিবারের ছেলের চোখে ছিল ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নপূরণে বাবার দীর্ঘদিনের লড়াই! প্রথমবার NEET পরীক্ষায় বসেই বাজিমাত করল মুর্শিদাবাদের রানীনগরের আবু সুফিয়ান!
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য, কিন্তু স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে কোনও সীমাবদ্ধতা ছিল না। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের জোরে আজ সাফল্যের নতুন ঠিকানায় পৌঁছে গেল পানিপিয়া গ্রামের এই তরুণ।
মুর্শিদাবাদ জেলার রাণীনগর ২ ব্লকের পানিপিয়া গ্রামের আবু সুফিয়ান ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। পড়াশোনার প্রতি ছেলের আগ্রহ এবং প্রতিভা দেখে তাঁকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর বাবা। পেশায় তিনি একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। আর্থিকভাবে মধ্যবিত্ত পরিবার হলেও ছেলের স্বপ্নপূরণের বিষয়ে কখনও আস্থা হারাননি তিনি।
অবশেষে সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় পদক্ষেপ আবু সুফিয়ানের। আল-আমিন মিশনে পড়াশোনা ও প্রস্তুতি নিয়ে ২০২৬ সালের NEET পরীক্ষায় প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই যোগ্যতা অর্জন করেছে সে। শুধু তাই নয়, তৃতীয় রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়ে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে আবু সুফিয়ান।
একজন মুসলিম বাবার স্বপ্ন, তাঁর ছেলের চিকিৎসক হয়ে ওঠা। এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের আনন্দের খবর নয়, বরং সংখ্যালঘু এবং পিছিয়ে পড়া বহু পরিবারের সেই সমস্ত ছাত্রছাত্রীর কাছেও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, যারা আর্থিক সীমাবদ্ধতা কিংবা সামাজিক পরিস্থিতির কারণে বড় স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়। সুযোগ, সঠিক প্রস্তুতি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্যের দরজা যে খুলতে পারে, তারই উদাহরণ আবু সুফিয়ান।
তাঁর এই সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধু এবং গ্রামবাসীরা। পানিপিয়া গ্রাম থেকে কলকাতার মেডিকেল কলেজে পৌঁছনোর এই যাত্রা আজ গোটা এলাকার গর্ব।
একজন বাবার স্বপ্নকে বাস্তবের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আবু সুফিয়ানের এই সাফল্য আগামী দিনে আরও অনেক তরুণকে পড়াশোনার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সাহস জোগাবে। আবু সুফিয়ানের কথায়,বাবার স্বপ্ন ছিল, আগামী দিনে মানুষের চিকিৎসা করব। মানুষের সেবা করব।
