Last Updated:
Murshidabad News: মুর্শিদাবাদ জংশন রেলওয়ে স্টেশনের অপরিচ্ছন্ন হাল, অব্যবস্থা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও রেল ভবনের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন মুর্শিদাবাদ জংশন। প্রতিদিন এই স্টেশনে প্রচুর পর্যটক নেমে মুর্শিদাবাদ জেলার সবথেকে আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল হাজারদুয়ারি প্যালেস সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নবাবী ইতিহাস দেখতে যান। নশিপুর রেল ব্রিজ চালু হয়ে যাওয়ার পর এই স্টেশন দিয়েই সাইরাং এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে।
নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই স্টেশন সহ আরো কয়েকটি স্টেশনের অপরিচ্ছন্ন হাল দেখে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ, জনশিক্ষা প্রসার এবং গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের মন্ত্রী তথা মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। রবিবার সকালে হঠাৎই মন্ত্রী কয়েকজন দলীয় কর্মীকে নিয়ে মুর্শিদাবাদ জংশন রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে স্টেশনের অপরিচ্ছন্ন হাল দেখে নিজের ক্ষোভ জানান রাজ্যের এই মন্ত্রী। এমনকি স্টেশন মাস্টার মুকুল আনন্দের সঙ্গেও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। গোটা বিষয়টি তিনি রেল দিল্লিতে রেল ভবন এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তবে রাজ্যের মন্ত্রীর ক্ষোভ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি স্টেশন মাস্টার।
মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার রেলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও মুর্শিদাবাদ জংশনে সেই টাকার সঠিক ব্যবহার না হয়ে অবাধ লুটপাট চলছে। টেন্ডার ছাড়াই রেলের সরকারি আমবাগান এবং একাধিক পুকুর বেআইনিভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ এনে তিনি জানান, স্টেশন মাস্টার নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের হয়ে দালালি করছেন এবং গরিব বিজেপি সমর্থকদের দোকান করতে না দিয়ে অন্যদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বড়সড় দুর্নীতির পর্দাফাঁস করে মন্ত্রী দাবি করেন, সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তৎকাল টিকিট পাচ্ছেন না। দালালচক্রের মাধ্যমে ২০০ টাকার টিকিট ২,০০০ টাকায় কালোবাজারি করা হচ্ছে, যার অর্ধেক ভাগ পাচ্ছে আরপিএফ এবং অর্ধেক পাচ্ছে রেলের অসৎ কর্মীরা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কাউন্টারে বসে মদ্যপানের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি।
স্টেশনের পরিকাঠামোগত বেহাল দশা তুলে ধরে গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানান, স্টেশন চত্বরে কোনও নির্দিষ্ট পার্কিং জোন না বানিয়ে গাড়ি রাখলেই ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, সেই জরিমানার সঠিক রসিদ না দিয়ে প্ল্যাটফর্মে ধূমপান বা বেআইনি লাইন পারাপারের ভুয়ো স্লিপ ধরানো হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া স্টেশনের এস্কেলেটর দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখা হয়, মহিলা ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের শৌচালয় তালাবন্ধ থাকে এবং পুরো স্টেশন চত্বর আবর্জনা, পলিথিন ও মশার লার্ভায় ভরে রয়েছে। পানীয় জলের আধুনিকীকরণের কাজেও ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি টাকা তছরুপের অভিযোগ করেন তিনি। ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ও ওভারব্রিজ অহেতুক ভেঙে দিয়ে স্টেশনের ক্ষতি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে স্টেশনের একাধিক অবৈধ নির্মাণ ও লিজের বৈধ নথিপত্র দেখতে চাইলে আধিকারিকরা সময় চেয়েও তা দেখাতে পারেননি। উল্টে এদিন স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে তীব্র বচসা তৈরি হয়। স্টেশন চত্বরের সমস্ত অনিয়ম এবং দুর্নীতি নিয়ে নিয়মিত নজরদারি চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রামাণ্য নথি ও রিপোর্ট তিনি খুব দ্রুত কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী, রেল ভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানাবেন। যদিও এই নিয়ে মুর্শিদাবাদ স্টেশনের অধিকারিক কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
