Last Updated:
Money-Making Tips: আর্থিক অনটনে মেলেনি আর্ট কলেজে পড়ার সুযোগ, তবে হার মানেননি কাটোয়ার যুবক সুমন মোদক! মাত্র ৩,০০০ টাকা মূলধনে শুরু করা হস্তশিল্পের কাজ ও ডিজাইনার পাঞ্জাবি এবার দুর্গাপুজোয় পাড়ি দিচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপ ও নিউইয়র্কে।
কাটোয়া, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: একসময় আর্ট কলেজে পড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কাটোয়ার সুমন মোদক। কিন্তু পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সেই স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কাটোয়া কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি অবশ্য থামেনি তাঁর শিল্পচর্চা। ছোট থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ভালবাসা, আর সেই ভালবাসা থেকেই চাদর, টেবিল ক্লথে নকশা করা শুরু। পরে একদিন পাঞ্জাবির ওপর নিজের হাতে নকশা করে তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই বদলে যায় গল্পটা।
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে চাহিদা, আর সেই হাতের কাজই আজ তৈরি করেছে তাঁর নিজস্ব পরিচয়। শুরুটা হয়েছিল মাত্র তিন-চার হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে। টিউশন পড়িয়ে জমানো টাকা দিয়েই দোকান শুরু করেছিলেন সুমন। এখন তাঁর রয়েছে নিজস্ব কারখানা, নিজস্ব ব্র্যান্ড। দোকানে থাকা পাঞ্জাবির বেশিরভাগের নকশা তাঁর নিজের, কাটিং থেকে ডিজাইন, সবেতেই রয়েছে তাঁর সৃষ্টিশীলতার ছাপ। আর পুজোর মরসুমে সেই পাঞ্জাবির চাহিদাই এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
অসম, শিলিগুড়ি, পুনে, বেঙ্গালুরু-সহ একাধিক জায়গায় যাচ্ছে তাঁর তৈরি পাঞ্জাবি। সুমন মোদক বলেন, “এখন আমার অনুভূতি অনেক ভাল, যা হয়েছে সব এই ব্যবসা থেকেই। অনেক পরিশ্রম করেছি, এখন আমার তৈরি পাঞ্জাবি দেশের বাইরে যাচ্ছে এটা ভেবে নিজেরই ভাল লাগে।” তবে এ বছর সুমনের সাফল্যের গল্পটা যেন আরও বড়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পুজোর জন্য তাঁর তৈরি পাঞ্জাবি পাড়ি দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ এবং নিউইয়র্কে।
সমাজমাধ্যমে তাঁর ‘সুমন মোদক’ প্রোফাইল ও বিভিন্ন কালেকশন দেখে ক্রেতারা যোগাযোগ করছেন হোয়াটসঅ্যাপে। বাংলা সিরিয়ালের অভিনেতাদেরও পছন্দ হয়েছে তাঁর তৈরি পাঞ্জাবি। যে কাজ নিয়ে একসময় অনেকের ঠাট্টা-তামাশা শুনতে হয়েছিল, আজ সেই কাজই সুমনের শিল্পীসত্তাকে পৌঁছে দিচ্ছে দেশের সীমানার বাইরে। আর্থিক কারণে আর্ট কলেজে পড়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও, নিজের হাতের শিল্পকেই পেশা বানিয়ে সুমন এখন হয়ে উঠেছেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
