Headlines

ভুয়ো শংসাপত্র থেকে দুবাই পলায়ন, দিল্লিতে শেষ হল ভুয়ো ডাক্তারের ‘লুকোচুরি’ | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সম্প্রতি পাঁচ জন ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। তাঁদের তালিকায় ছিল সাইদুলের নামও। তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তৎপর ছিল পুলিশ।

দিল্লিতে শেষ হল ভুয়ো ডাক্তারের ‘লুকোচুরি’
দিল্লিতে শেষ হল ভুয়ো ডাক্তারের ‘লুকোচুরি’

পূর্ব বর্ধমান: দুবাইয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পাকাপাকি থাকার পরিকল্পনা ছিল ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল হকের। ফেক ডাক্তার সিন্ডিকেটের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি। এক মাস দুবাইয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর পরিবারের সদস্যদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্যই দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই লুকআউট নোটিসের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় বর্ধমান থানার পুলিশের হাতে। বুধবার ভোরে সাইদুলকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এদিনই তাঁকে বর্ধমান আদালতে তোলা হবে।

তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হতে পারেন বুঝতে পেরেই রাতারাতি বর্ধমান ছেড়ে পালান সাইদুল। প্রথমে হায়দরাবাদে যান তিনি। সেখান থেকে বিমানে পাড়ি দেন দুবাই। সেখানে প্রায় এক মাস আত্মগোপন করে ছিলেন বলে অভিযোগ। স্ত্রী অলিভিয়া খাতুনের সঙ্গে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ফের দুবাইয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেখানেই নতুন করে চিকিৎসার ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই মঙ্গলবার দিল্লি বিমানবন্দরে ধরা পড়েন তিনি।

গত ২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু হয় চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, ওই অস্ত্রোপচার করেছিলেন সাইদুল হক। ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তেই সামনে আসে সাইদুলের চিকিৎসক পরিচয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিহার থেকে ডাক্তারির ভুয়ো শংসাপত্র জোগাড় করেছিলেন সাইদুল। পরে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোগাড় করে চিকিৎসার নামে ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলেও অভিযোগ। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সম্প্রতি পাঁচ জন ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। তাঁদের তালিকায় ছিল সাইদুলের নামও। তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তৎপর ছিল পুলিশ।

দিল্লি বিমানবন্দরে গ্রেফতারের পর বুধবার ভোরে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয় সাইদুলকে। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভুয়ো চিকিৎসক চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগ, পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং ওই শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *