Last Updated:
Inspirational Story: অবসরে আলসেমি নয়, গবেষণা ও লেখালিখিই আসল অক্সিজেন! ১৭টি বই লিখে নতুন প্রজন্মের সামনে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রাক্তন ডিআই মধুপ দে।
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: কর্মব্যস্ত জীবনের গুরুদায়িত্ব শেষে অনেকেই যখন ক্লান্তির অবসর খোঁজেন, তিনি তখন নতুন করে মেতে ওঠেন অক্ষরের দুনিয়ায়। বয়স বাড়লেও কলমের ধার কমেনি এতটুকু। অবসর জীবন মানে যে শুধু গৃহকোণে দিন গোনা নয়, বরং গবেষণার এক নতুন অধ্যায়— তা প্রতিদিন প্রমাণ করে চলেছেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পদ থেকে অবসর নেওয়া মধুপ দে। মেদিনীপুর শহরের এই প্রবীণ বাসিন্দার কাছে লেখালেখি এবং বই প্রকাশই এখন প্রতিদিনের বেঁচে থাকার মূল অক্সিজেন।
শুরুটা হয়েছিল বাংলার শিক্ষক হিসেবে। চক-ডাস্টারের সেই পরিচিত আঙিনা ছেড়ে এক সময়ে যোগ দেন শিক্ষা প্রশাসনের দফতরে। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে সামলেছেন অবর ও সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের পদ। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেন তিনি। সরকারি রুটিনের ব্যস্ততার মাঝেও পড়ার অভ্যাস কখনও মরতে দেননি। কর্মজীবনে প্রকাশিত হয়েছিল চারটি বই, যার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার রূপরেখা ও বিদ্যালয় পরিদর্শনের ইতিহাস শিক্ষা মহলে অত্যন্ত সমাদৃত। তবে অবসর গ্রহণের পর সেই কাজের গতি আরও বেড়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭-তে।
জন্মসূত্রে জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রামের ভূমিপুত্র মধুপবাবুর লেখায় বারবার ফিরে আসে মাটির গন্ধ। কর্মসূত্রে দীর্ঘ সময় পুরুলিয়া এবং অবিভক্ত মেদিনীপুরের প্রান্তে প্রান্তে ঘুরেছেন। ফলে লাল মাটির রুক্ষ প্রকৃতি, লোকসংস্কৃতি এবং আদিবাসী জীবনযাত্রাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে রূপ নিয়েছে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধে। লোকায়ত সংস্কৃতি, ঝাড়গ্রামের প্রাচীন ইতিহাস, গ্রাম বাংলার সামাজিক বিন্যাস থেকে শুরু করে উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনি— তাঁর লেখার পরিধি বহুমুখী। ঝাড়গ্রামের লোকসংস্কৃতি নিয়ে তাঁর লেখা একাধিক বই পাঠক ও গবেষক মহলে সাড়া ফেলেছে।
অবসর নেওয়ার পর এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও বার্ধক্য কোনওভাবেই ছুঁতে পারেনি এই প্রাক্তন আধিকারিককে। মেদিনীপুর শহরের বাসভবনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাটে বইয়ের গন্ধ আর পাণ্ডুলিপির পাতায়। আজও পুরোদমে চলছে নতুন বিষয়ের খসড়া তৈরির কাজ। একরাশ উদ্দীপনা নিয়ে প্রবীণ এই গবেষকের বার্তা, আধুনিক প্রজন্মের উচিত ডিজিটাল দুনিয়ার বাইরে এসে বইয়ের সঙ্গে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। কারণ বই-ই পারে মানুষকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে।
