Headlines

ICDS Centre: নেই নিজস্ব ছাদ, নিজের বেতনের টাকায় আইসিডিএস ভাড়া! কাটোয়ার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর টিকে থাকার লড়াই, দেখলে চোখে জল আসবে | ICDS Centre katwa panuhat anganwadi centre running in dilapidated rented room workers paying rent | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

ICDS Centre: ১৫ বছর ধরে নেই নিজস্ব ভবন! ফুটো টিনের চাল গলে পড়া জলে ভিজছে চাল-ডাল, বন্ধ শিশুদের পঠন-পাঠন। কাটোয়ার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ঘিরে ক্ষোভ তুঙ্গে।

+

কাটোয়ার

কাটোয়ার পানুহাটে ২৪৩ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ফুটো টিনের ঘর

কাটোয়া, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: নিজস্ব ভবন নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়িতেই চলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, সেই ঘরের ভাড়াও দিতে হচ্ছে কর্মীকে নিজের বেতন থেকে। এক চিলতে টিনের ঘরে কোনওরকমে চলছে রান্নাবান্না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মশার উপদ্রব, তার উপর ফুটো টিনের চাল। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতর পড়ছে জল। ঘরের পরিসর এতটাই কম যে বহুদিন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে শিশুদের পঠন-পাঠন। এমনই বেহাল ছবি কাটোয়ার পানুহাটের ২৪৩ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। দীর্ঘদিনের এই সমস্যায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে এই কেন্দ্রের নিজস্ব কোনও ভবন নেই। ফলে বাধ্য হয়ে একটি ছোট্ট ভাড়া ঘরেই চলছে কেন্দ্রের রান্নার কাজ। প্রতিদিন এই কেন্দ্রে প্রায় ৫৬ জন শিশু ও প্রসূতি মায়ের জন্য খাবার রান্না করা হয়। কিন্তু রান্নাঘরের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। টিনের চাল ফুটো থাকায় বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতরে জল পড়ে। ভিজে যায় চাল, ডাল, রান্নার জ্বালানি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। ঘরের চারদিক দিয়েও জল ঢোকে। তার উপর রান্নার সময় ধোঁয়ায় সমস্যায় পড়তে হয় কর্মীদের। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর দাবি, কেন্দ্রের ঘরের জন্য প্রতি মাসে নিজের বেতন থেকে ৪০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনাচ্ছে নিম্নচাপ, আজ থেকেই বদলে যাবে আবহাওয়া! হুগলি থেকে পাহাড়, কী হতে চলেছে? জানুন

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী চায়না দেবনাথ বলেন, “বৃষ্টি হলেই চাল, ডাল থেকে শুরু করে রান্নার জ্বালানি সব ভিজে যায়। ঘরের চারদিক দিয়েও জল ঢোকে। রান্নার সময় এত ধোঁয়া হয় যে খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। নিজের বেতন থেকেই মাসে ৪০০ টাকা ঘরের ভাড়া দিতে হয়। প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি, যাতে একটি উপযুক্ত জায়গায় কেন্দ্রের রান্নার ব্যবস্থা করা যায়।” ঘরের পরিসর অত্যন্ত কম হওয়ায় সেখানে শিশুদের বসিয়ে পড়াশোনা করানোও সম্ভব নয় বলে অভিযোগ। ফলে কয়েক বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে শিশুদের পঠন-পাঠন। এখন ওই ছোট্ট ঘরেই কোনওরকমে রান্না করে শিশু ও প্রসূতি মায়েদের জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। ঘরের ভিতরে জল জমে যাওয়ায় শিশুদের পাঠাতেও আতঙ্কিত অভিভাবকেরা।

আরও পড়ুন: সকালে ফোনে শেষ কথা, তারপরই নিখোঁজ! নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে এখনও খোঁজ নেই বর্ধমানের সন্দীপের, উৎকণ্ঠায় পরিবার

স্থানীয় বাসিন্দা সঙ্গীতা দাস বলেন, “বাচ্চাদের বসার মতো কোনও জায়গাই নেই। বর্ষার সময় ঘরের ভিতরে জল জমে যায়। এই পরিবেশে বাচ্চাদের পাঠাতেই ভয় লাগে। রান্নার জায়গার অবস্থাও ভাল নয়। গরম খাবারের মধ্যে কোনও কিছু পড়ে গেলে বা নোংরা হয়ে গেলে শিশুদের জন্য সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান হয়নি।” স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুদের পুষ্টি ও প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা যেখানে দেওয়ার কথা, সেখানে বছরের পর বছর ধরে এমন বেহাল পরিকাঠামো অত্যন্ত উদ্বেগের। একটি নিজস্ব ও স্বাস্থ্যকর ভবনের অভাবে একদিকে যেমন শিশুদের পঠন-পাঠন বন্ধ, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে রান্না করতে হচ্ছে কর্মীদের। তাই দ্রুত ২৪৩ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য উপযুক্ত ভবন ও নিরাপদ রান্নাঘরের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে এলাকায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *