Last Updated:
Dandiya Festival: দীপাবলির আগেই বাঁকুড়ায় গুজরাটের ছোঁয়া! তামলিবাঁধ স্টেডিয়াম জুড়ে রঙিন পোশাক, হাতে ডান্ডিয়া আর মিউজিকের তালে মেতে উঠলেন হাজার হাজার মানুষ। রাত নামতেই সেই উৎসবের রঙ যেন আরও গাঢ় ও বর্ণময় হয়ে ওঠে।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে যেন এক টুকরো গুজরাট! চারদিকে রঙিন পোশাক, হাতে হাতে ছোট ছোট লাঠি আর তালে তালে ডান্ডিয়ার ছন্দ। এমনই এক মনোরম ছবি ধরা পড়ল বাঁকুড়া শহরের তামলিবাঁধ স্টেডিয়ামে। উপলক্ষ ডান্ডিয়া ২০২৬। কয়েক ঘণ্টার জন্য যেন বাঁকুড়ার মাটিতেই তৈরি হল গুজরাটের উৎসবের আবহ। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম পরিণত হল এক বিশাল নাচের মঞ্চে। সন্ধ্যা নামতেই উৎসবের রং আরও গাঢ় হতে শুরু করে।
শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, এই উৎসবে সামিল হতে দেখা গেল সমাজের সমস্ত বয়সের মানুষকে। কচিকাঁচাদের উচ্ছ্বাস থেকে শুরু করে যুবক-যুবতীদের প্রাণবন্ত নাচ, এমনকী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের অংশগ্রহণও নজর কাড়ল। প্রত্যেকের হাতেই ছিল ডান্ডিয়ার লাঠি। জোড়ায় জোড়ায় লাঠির ছন্দময় ঠোকাঠুকি আর পায়ের তালের মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছিল একের পর এক মনমুগ্ধকর দৃশ্য। বয়সের ব্যবধান ভুলে সবাই যেন এক সুতোয় বাঁধা পড়েছিলেন এই উৎসবের আনন্দে।
অনুষ্ঠানের আকর্ষণ বাড়াতে ছিল নানা ধরনের গানের আয়োজন। আধুনিক হিন্দি গান থেকে শুরু করে ক্লাসিক্যাল সুর, প্রতিটি গানের ছন্দেই নিজেদের মতো করে নাচের পরিবেশনা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। স্টেডিয়ামে বসেছিল ডিজের আসরও। একের পর এক জনপ্রিয় গানের তালে নাচের গতি কখনও ধীর, কখনও আবার তুমুল। দর্শকদের উৎসাহ, অংশগ্রহণকারীদের উদ্দীপনা এবং আলোর ঝলকানি মিলিয়ে গোটা আয়োজন হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত। অনেকের কাছেই এটি ছিল বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে উৎসবের সন্ধ্যা কাটানোর এক বিশেষ সুযোগ।
দীপাবলির আগে বাঁকুড়ার সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে বাড়তি মাত্রা যোগ করল। নভেম্বরের সন্ধ্যায় হালকা শীতের আমেজ, চারপাশে উৎসবের মেজাজ আর সঙ্গীতের তালে হাজার হাজার মানুষের একসঙ্গে নেচে ওঠা, সবমিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক অন্যরকম পরিবেশ। গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী ডান্ডিয়া নাচের রং এবার ছড়িয়ে পড়ল বাঁকুড়ার মাটিতেও। আলোর উৎসবের আগে এই নাচের উৎসব যেন শহরবাসীর কাছে হয়ে উঠল দীপাবলির এক জমজমাট আগাম উদযাপন।
