Last Updated:
Madan Mitra: তাঁর দ্বিতীয় বার্তায় বর্ষীয়ান বাম নেতা বিমান বসু শুক্রবার বলেছেন, ‘‘সিঙ্গুরের যাঁরা জমি দিয়েছিলেন, তাঁরা কি বেনিফিট পেয়েছিলেন, সেটা ওখানের মানুষের সাথে গিয়ে দেখা করা উচিত। টাটার ন্যানো শুরু হবার সময় এসেছিল। আন্দোলনের নামে যা সব করা হয়েছিল, মানুষ ভুলে গেল।’’
কলকাতা: সিঙ্গুর আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশেই দেখা যেত তাঁকে৷ দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পরে উপলব্ধি মদন মিত্রের। রাজ্যে বাম আমলের শিল্পনীতি নিয়ে ফের নতুন করে চর্চা শুরু হওয়ায় সিঙ্গুর পর্ব নিয়ে মুখ খুললেন মদন৷ বললেন, ‘‘আমি মনে করি টাটাকে তাড়ানো ভুল হয়েছে। টাটাকে তাড়ানো ভুল হয়েছিল। আজকের দিনে যদি শুভেন্দু অধিকারী টাটাকে নিয়ে শিল্প করতে পারে তাহলে শুধু সিঙ্গুর নয়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আবার আশার আলো দেখবে। আমি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বলব, সিঙ্গুরে কারখানা হলে আপনারা চাকরি পেতেন। টাটার কারখানা হলে কয়েক লক্ষ যুবকের কর্মসংস্থান হত। আর টাটাকে দেখে আরও ১০০ শিল্প হত। যেহেতু টাটাকে আটকে দেওয়া হল। বাদবাকি সবাই দাঁড়িয়ে গেল।’’
মদন মিত্র অবশ্য বলেন, ‘‘আমি ভুল করেছি বলব না। সামগ্রিকভাবে আমাদের দলের রাজনৈতিক মূল্যায়নে ভুল ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলাম। যে, সবুজ বিক্রি করে কংক্রিটের জঞ্জাল হতে দেব না, কিন্তু সবুজ যদি আপনি না বিক্রি করেন, তাহলে শিল্প কি ছাদের মাথায় হবে? বেসটা তো মাটিই লাগবে, মাটিতে তো ঘাস আছে। আমার মনে হয় বুদ্ধবাবু ফেলিওর , সে জায়গায় শুভেন্দু অধিকারী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি বাংলার একজন নাগরিক হিসাবে এবং একজন বিধায়ক হিসাবে একে ওয়েলকাম করছি এবং আমার মনে হচ্ছে, পরবর্তীকালে ইতিহাস প্রমাণ করবে আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় ভুল ছিল।’’
মদন মিত্রের এহেন মন্তব্যের জবাবে মমতা-পন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘মদন মিত্রর যাবতীয় যে তৃতীয় নেত্রর উন্মোচন হয়েছে, গোটাটা হচ্ছে ওঁর বাড়িতে ওঁর স্ত্রীকে ইডি চিঠি দিয়ে ডাকার পর। বউদির নামে ইডির চিঠি যাওয়ার আগে ওঁর ডায়লগ ছিল, আমার মৃতদেহের উপরও যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া ফুলের পতাকা থাকে। সুতরাং যার অবস্থান চেঞ্জ হয় ইডির চিঠির উপর ভিত্তি করে, তাঁর কথার বাড়তি গুরুত্ব আছে বলে আমি মনে করি না।’’

