Last Updated:
Kali Puja 2026: সপ্তদশ শতাব্দীর মহাতান্ত্রিক সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের মাতৃসাধনা। তারপর গঙ্গাস্নানে গিয়ে দক্ষিণাকালীর রূপদান। অন্যদকে নবদ্বীপের এই সাধকের জীবিত সমাধির রয়েছে মল্লারপুরে। এমনটাই বিশ্বাস। তাই নবদ্বীপ ও মল্লারপুরকে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি।
বীরভূম, সৌভিক রায়: বাঙালির প্রাণের পুজো, ঘরের মেয়ে থেকে বিশ্বজননী হয়ে ওঠার যে দক্ষিণাকালী রূপ তার নেপথ্য কারিগর সপ্তদশ শতাব্দীর প্রবাদপ্রতিম মহাতান্ত্রিক সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। আলুলায়িত চুল, কৃষ্ণবর্ণ রূপ এবং লজ্জায় দাঁতে জিভ কাটা সেই ঐতিহাসিক মাতৃমূর্তির কল্পনা আজও শিহরিত করে ভক্তহৃদয়। শাক্ত দর্শন গ্রন্থ ‘বৃহৎ তন্ত্রসার’ এর রচয়িতা এই সাধকের হাত ধরেই বাংলার তান্ত্রিক সংস্কৃতি পেয়েছে এক নতুন রূপরেখা। অথচ, কালের নিয়মে এই দুই ঐতিহাসিক জনপদ নদিয়ার নবদ্বীপ এবং বীরভূমের মল্লারপুর যথেষ্ট প্রচার ও পরিকাঠামোর আলো থেকে দূরে রয়ে গিয়েছে। এবার এই দুই পবিত্র ভূমিকে পূর্ণাঙ্গ এবং আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো দাবি উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাইত মহলে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যটনের মানচিত্রে জায়গা করে দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে। নদিয়ার নবদ্বীপে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের সময়কালে তন্ত্রসাধনা ছিল অত্যন্ত দুর্বোধ্য ও কঠোর গোপনীয়তায় ঘেরা। সাধারণ মানুষের নাগালে তন্ত্রের দর্শনকে পৌঁছে দিতে এবং মহামায়ার সাকার রূপ ফুটিয়ে তুলতে তিনি ব্যাকুল ছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে, একদিন গভীর রাতে মায়ের স্বপ্নাদেশ পান তিনি ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রথম যে নারীকে তিনি দেখতে পাবেন, সেই রূপেই অবয়ব দিতে হবে দেবী প্রতিমার। পরদিন ভোরে প্রাত্যহিক গঙ্গা স্নানে যাওয়ার সময় ঘটে সেই অলৌকিক ঘটনা।
তিনি দেখতে পান এক সাধারণ কৃষ্ণাঙ্গী গোয়ালিনী বধূকে, যিনি তখন গাছের গায়ে ঘুটে দিচ্ছিলেন। তাঁর বাঁ-হাতে গোবরের তাল, পরনের কাপড় হাঁটুর উপরে তোলা, আর পিঠ ছাপিয়ে হাঁটু পর্যন্ত নেমেছে খোলা চুল। কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছতে গিয়ে তাঁর সিঁদুর ঘেঁটে কপালে ছড়িয়ে পড়েছিল। এমন সময় আচমকা এক পরপুরুষ অর্থাৎ সাধক কৃষ্ণানন্দকে সামনে দেখতে পেয়ে লজ্জিত হয়ে তিনি দাঁতে জিভ কেটে থমকে দাঁড়ান। সেই মুহূর্তে তাঁর ডান পা ছিল সামান্য এগিয়ে। এই আকস্মিক ও অপূর্ব লজ্জিত ভঙ্গিকেই গঙ্গামাটি দিয়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলেন সাধক। জন্ম নেয় বাঙালির ঘরে ঘরে পুজিত পরিচিত দক্ষিণাকালী রূপ।
নদিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে কৃষ্ণানন্দের সাধনার পরিধি ছড়িয়ে পড়েছিল বীরভূমের মল্লারপুরেও। মহাভারত যুগের স্মৃতিবিজড়িত এই মল্লারপুরে মল্লেশ্বর শিবের সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল কাটিয়েছিলেন তিনি। কিংবদন্তি বলে, এখানেও সাধনার চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনি দিব্যদর্শন লাভ করেছিলেন। পরবর্তীকালে রামপ্রসাদ সেন, সাধক বামদেব থেকে শুরু করে স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণের মতো সাধকরা কৃষ্ণান্দের নির্দেশিত নিয়ম ও তাঁর সংকলিত ‘তন্ত্রসার’ অনুসরণ করেই মায়ের আরাধনা করেছিলেন।
