Last Updated:
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার দক্ষিণ হাটগেছিয়ার তরুণ সৌম্যদীপ মাইতি ইসরোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বভারতীয় স্তরে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত পরিবার ও এলাকা।
সৈকত শী, নন্দকুমার: প্রত্যন্ত গ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা, চোখে মহাকাশ গবেষণার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণের পথে এবার বড়সড় সাফল্য অর্জন করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার দক্ষিণ হাটগেছিয়ার তরুণ সৌম্যদীপ মাইতি। ইসরো (ISRO)-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বভারতীয় স্তরে চতুর্থ স্থান অধিকার করে নজর কাড়লেন তিনি।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যে গর্বিত পরিবার, আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে গোটা গ্রাম। এক সাধারণ গ্রামীণ পরিবারের সন্তান হয়েও অধ্যবসায়, মেধা ও নিরলস পরিশ্রমের জোরে দেশের মহাকাশ গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া সৌম্যদীপের সাফল্য এখন এলাকার গর্ব। তাঁর এই কৃতিত্বে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন গ্রামের বহু পড়ুয়া।
২৬ বছর বয়সি সৌম্যদীপের শিক্ষাজীবনের ভিত গড়ে উঠেছে গ্রামের পরিচিত শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেই। দক্ষিণ হাটগেছিয়ার শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে প্রাথমিক পাঠ শেষ করে খঞ্চি গুণধর আদর্শ বিদ্যাপীঠে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে। দ্বাদশ শ্রেণির পর জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করার পর সুযোগ পান দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটি ধানবাদে। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক সম্পূর্ণ করেন। তাঁর মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং বাবা পেশায় ছিলেন স্পেশাল এডুকেটার। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। পরিবারের সাধারণ জীবনযাপনই সৌম্যদীপের সাফল্যের পথে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
আইআইটি ধানবাদ থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর কর্মজীবন শুরু করেন একটি বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায়। পরে এনটিপিসি লিমিটেডে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ট্রেনি হিসেবে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি সৌম্যদীপ। দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় কাজ করার স্বপ্নকে সামনে রেখে ইসরোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। ১৪ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পদের জন্য ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৫ নভেম্বর প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত মেধাতালিকা। সেখানে মেকানিক্যাল শাখায় সর্বভারতীয় স্তরে চতুর্থ স্থান অর্জন করে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এই সাফল্যের হাত ধরেই ইসরোর মহাকাশ গবেষণা ও উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর। নতুন কর্মক্ষেত্রে গ্রেড ও দশম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাওয়ার কথা।
সৌম্যদীপের এই সাফল্য নিছক ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছে সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর সাফল্যে দক্ষিণ হাটগেছিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের আবহ। পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে সৌম্যদীপ এখন গর্বের নাম। সৌম্যদীপের বাড়িতে যান নন্দকুমারীর বিধায়ক নির্মল খাঁড়া। তিনি বলেন, “তাঁর এই কৃতিত্ব আগামী দিনে এলাকার আরও অনেক ছাত্রছাত্রীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করবে।” গ্রামবাংলার মাটি থেকে মহাকাশ গবেষণার দোরগোড়ায় পৌঁছে সৌম্যদীপ যেন বার্তা দিলেন—স্বপ্নের উচ্চতা নির্ধারণ করে না জন্মভূমির পরিচয়, বরং লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলার সাহসই সাফল্যের পথ তৈরি করে
